মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরের পল্লীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আগাছা নাশক ওষুধ স্প্রে করে কৃষকের জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তরা গ্রামের মনসুর আলীর ৩৮ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে চলতি মৌসুমে তিল ফসল চাষাবাদ করেন ওই এলাকার উত্তরা গ্রামের দিনমজুর মতিয়ার রহমান। বর্তমানে তার তিলের গাছে ফুল ধরার সময় হয়েছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার দুষ্কৃতকারী, ভূমি দস্যু আশেক উল্লা লোকজন লেলিয়ে দিয়ে ফসলের ক্ষেতে আগাছা নাশক স্প্রে করে মতিয়ার রহমানের চাষাবাদকৃত সমুদ্ধসঢ়;য় ফসল নষ্ট করে ফেলেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী মতিয়ার রহমান জানান, আমি এই এলাকার মনসুর আলীর ছেলে মশিউর রহমানের কাছ থেকে ৩৮ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছি। দুই মাস আগে ওই জমি চাষাবাদ করার সময় আশেক উল্লা ও তার লোকজন আমাকে চাষাবাদে বাঁধা নিষেধ করেছিল। আমি তাদের বাধা নিষেধ অপেক্ষা করে ফসল ফলানোর কারণে আশেক উল্লা গত মঙ্গলবার গভীর রাতে লোকজন লেলিয়ে দিয়ে আমার ফসলের খেতে আগাছা নাশক ওষুধ স্প্রে করে ফসল নষ্ট করেছে। এতে করে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে এক বুক আশা নিয়ে বর্গাকৃত জমিতে ফসল ফলিয়েছিলাম। আশেক উল্লা আমার চরম ক্ষতি করেছে। আমি এখন নিঃস্ব প্রায়। তাই আমি দেশের প্রচলিত আইনে তার শাস্তি কামনা করছি। এদিকে জমির মালিক মশিউর রহমান বলেন, এই এলাকার ভূমি দস্যু আশেক উল্লা গং ইতিপূর্বে দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার বারঘরিয়া এলাকায় আমাদের ওই জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিলেন।
এ নিয়ে আমরা স্থানীয় হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করলে তৎকালীন চেয়ারম্যান মাসুদ শাহ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি সালিশের আয়োজন করেন। ওই সালিশে বৈধ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উপস্থিত লোকজন সালিশে আমাদের পক্ষে রায় দেয়। তখন থেকে আমরা ওই জমি ভোগ দখল করে আসছি। এরপর থেকে আশেক উল্লা মাঝেমধ্যে জোরপূর্বক ওই জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার ২৭ আগস্ট তারিখে গভীর রাতে তিনি লোকজন লেলিয়ে দিয়ে আমার জমিতে আগাছা নাশক ওষুধ স্প্রে করে সমুদয় তিল ফসল নষ্ট করেছে। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে সেখানকার ইনচার্জ উজ্জ্বল বাবু তাকে দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। সে এখন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশেক উল্লার সাথে আলাপকালে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কিউএনবি/অনিমা/৩০ আগস্ট ২০২৫/বিকাল ৩:৫৬