বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ঢাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা সমর্থন না দিলে তহবিল বন্ধের হুমকি, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে জর্ডানের অভিযোগ ১৮ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন পাঁচ বছরের চুক্তিতে বার্সেলোনায় বেলজিয়ান তরুণ উইঙ্গার হুতি অবরোধের মধ্যে বাব আল-মান্দেব পাড়ি দিল পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনা এগোচ্ছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি

চৌগাছার পিআইও অফিসের চুক্তিভিত্তিক পিয়ন সুজন কোটিপতি !

স্টাফ রিপোর্টার,(যশোর)
  • Update Time : শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫
  • ১৪২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার,(যশোর) : চৌগাছার পিআইও অফিসের চুক্তিভিত্তিক পিয়ন শিমুল কুমার সুজন দত্ত। পিওন হয়েও অফিসের কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচয় দেন তিনি। কর্মকর্তা পরিচয়ে অফিসের কাজে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে স্বল্প সময়ে আর্থিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। পিয়ন হয়েও অফিস করেন প্রাইভেট কারে। দায়িত্বে অবহেলা ও দূর্ণীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক অব্যহিতর মৌখিক আদেশ দিয়ে স্থায়ী বরখাস্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামছুন নাহার। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমানের সুপারিশে সুজন দত্তকে পিআইও অফিসে ছোটখাটো কাজের জন্য রাখা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলামের নির্দেশ চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মুক্তদাহ গ্রামের জাকির হোসেনকে সরিয়ে দিয়ে ১৪-১২-২০১৪ তারিখে সুজন দত্তকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আর সুজন দত্তকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে হাত করে চেয়ারম্যান মেম্বরদের ভুয়া প্রকল্প তৈরীর মাস্টার বনে যান সুজন দত্ত। দুহাতে কামাতে থাকে টাকা। চড়ে বেড়ান নিজস্ব প্রাইভেট গাড়ি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মইনুল হোসেন বাচ্চুর সাথে যৌথ ঠিকাদারি কাজে নেমে পড়েন।

কাজে সুবিধার জন্য কিনে নেন রোড রোলারসহ নানা যানবাহন। চুক্তিভিত্তিক পিয়ন, বেতন পান বছরে একবার, তারপরও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এক সময়ের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সুজন দত্ত। পিয়ন হলেও অফিসে নিজের জন্য নিয়ে আসেন বড় ডেস্ক টেবিল আর বসার জন্য রিভলভিং চেয়ার। কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিজেকে পরিচয় দিতেন ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে। জেলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত গড়ে তোলেন নিজস্ব নেটওয়ার্ক। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাজের জন্য সুজনের টেবিলে ধর্ণা দিতে হয় দিনের পর দিন। পিআইও অফিসে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেন সুজন দত্ত। কেউ অফিসে গেলেই পুলিশের ভয় দেখাতেন তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সেক্রেটারীরা অফিসে আসলে সুজনকে স্যার না ডাকলে পোহাতে হয় নানা হয়রানি। কেবলমাত্র বাইরের লোক নয় অফিসের কর্মকর্তারাও জিম্মি হয়ে পড়ে সুজনের কাছে। চৌগাছা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে অফিসের সব কর্মকর্তা কর্মচারীকে হুমকি দিতেন সুজন দত্ত। অনিক নামে একজন উপ- সহকারী প্রকৌশলী অফিসে যোগদান করে বিভিন্ন প্রকল্প সরজমিনে দেখতে যান।

পিয়ন সুজন দত্ত তাকে প্রকল্প দেখতে যেতে নিষেধ করেন। সুজন দত্তের নির্দেশ না মানায় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) ডাক্তার নাসির উদ্দীনের ডিও লেটারে অনিককে বদলী করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুমন নামে একজন রাজস্ব খাতের অফিস সহকারীকেও বদলী করে দেয় সুজন দত্ত। এভাবে চৌগাছা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সর্বেসর্বা বনে যায় শিমুল কুমার সুজন দত্ত। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে চৌগাছা পিআইও অফিসে সুজন দত্তের কথায় ছিল অফিসের শেষ কথা।

উপজেলা পিআইও অফিসের একটি সুত্রে জানান, ৫ আগস্ট পতিত সরকার পতনের পরও সুজন দত্তের সুখের সাম্রাজ্য চলছিল নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। সাবেক এই ছাত্রলীগ ক্যাডার সরকার পতনের পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ অফিসে বেশ কয়েকবার সরকার বিরোধী মিটিং করেছে। সেখানে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সুজন দত্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মনযোগাতে শুরু করেন।

প্রভাবশালী নেতাকর্মিদের কাউকে ভাইয়া, কাউকে আংকেল ডেকে কাছাকাছি ভিড়ে যান। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি সুজন দত্তের। অফিসের কাজে অসহযোগিতা, বিভিন্ন ফাইল গায়েব করে দেওয়া, অফিসের ল্যাপটপ লক করে রাখাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে গত ২৪ এপ্রিল তাকে অফিসে না আসতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভার মিটিংএ তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে রেজুলেশন করে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সুজন দত্ত তার চাকুরী রক্ষা করতে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে তদবীরের পাশাপাশি অনেককে আবার হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে।

এ পর্যন্ত সে বেশ কয়েকবার ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চৌগাছার বেশ কয়েকজন সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তার সাথেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করে অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাকে সুজন বলছে আওয়ামী লীগ সারা জীবন ক্ষমতার বাইরে থাকবেনা তখন সে দেখে নিবে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেন, একজন চুক্তিভিত্তিক পিয়ন এতটা বেপরোয়া হতে পারে এটা কেবল চৌগাছায় এসে দেখলাম।

সবাই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামছুন নাহার জানান, দায়িত্বে অবহেলা ও দূর্ণীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক অব্যহিতর মৌখিক আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে ।

 

 

 

কিউএনবি/অনিমা//২৮ জুন ২০২৫, /রাত ৯:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit