আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় বাসার সামনে মাদক ব্যাবসা ও সেবন সহ অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় নিজ বাড়ির সামনে রফিকুল ইসলাম মোল্লা নামের এক কাঠমিস্ত্রীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে কতিপয় ইয়াবা ব্যাবসায়ীরা। পরে এবিষয়ে ভুক্তভোগী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।রোববার দুপুরে আশুলিয়ার আউকপাড়ার আদর্শ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী রফিকুল অভিযোগ করে বলেন, আনোয়ার হোসেনের ছেলে নুহ (২২) এর নেতৃত্বে ইয়াছিন (২৬) ও সালেহ উদ্দিন শহীদ অরফে পিস্তল শহীদ তারা ইয়াবার ডিলার। বিভিন্ন সময়ে আমার বাড়ির সামনের সিকিউরিটি লাইট অফ করে অন্ধকারের পরিবেশ তৈরি করে। এরপরে সেখানে ইয়াবা বিক্রিসহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছিলো। আমি বিভিন্ন সময় বাঁধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। এরই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে।
পরে গত রোববার দুপুরে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাড়ির সামনে নুহ এর নেতৃত্বে শামীম ও পিস্তল শহীদ সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন গুন্ডাপান্ডা আমার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে ছুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। পরে আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুঁটে আসলে তারা আমাকে রক্তাত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। এরপরে আমি নিরূপায় হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। ভবিষ্যতে আমার বাসার সামনে এবং এলাকায় তারা যেন মাদক ব্যবসা না করতে পারে, এই জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এবং সেই সাথে আমাকে ছুরিকাঘাতে রক্তাত জখম করার সাথে যারা যারা জড়িত রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবীও জানাই।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আশুলিয়ার আউকপাড়ার আদর্শগ্রামে আনোয়ারের ছেলে নুহ এর নেতৃত্বে কাঠমিস্ত্রী রফিকুলের বাড়ির সামনে সন্ধ্যার পরে প্রায়ই মাদকের আড্ডা বসাতো। এবং মাদক বেচাকেনা করতো। এরফলে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। কোরবানির দিন কাঠমিস্ত্রী রফিকের বাসায় মেহমান আসবে বলে মাদক কারবারি নুহ ও তার লোকজনকে তার বাড়ির সামনে মাদকের আড্ডা বসাতে নিষেধ করে। এতে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে তাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে রফিকের আর্তচিৎকারে আমরা ঘটনাস্থলে ছুঁটে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এরপরে তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। এলাকায় তারা যেন মাদকের আড্ডা এবং মাদক কেনাবেচাসহ অসামাজিক কার্যকলাপ না করতে পারে এই জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত নুহ এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।পরে আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি প্রতিনিধির ফোন রিসিভ করেননি। এরপরে আশুলিয়া থানার তদন্ত ওসি কামাল আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।