ছবিটিতে ওবায়দুল কাদেরকে একটি কোটের কলার তুলে মুখ আড়াল করতে দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ কোটের কাপড় মুখ ঢাকার মতো সহজে বাঁকানো যায় না। পাশাপাশি ছবির পেছনের ভবনের গঠন, জানালার অদ্ভুত প্রতিসাম্য এবং রাস্তাঘাটের অতিরিক্ত মসৃণতা—সবই এআই গ্রাফিকসের চেনা বৈশিষ্ট্য।
এছাড়া, গুগল ম্যাপে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কলকাতার বাগমারী রোডে সত্যিই ‘নর্থ সিটি’ নামের একটি হাসপাতাল আছে। তবে ছড়ানো ছবির সঙ্গে হাসপাতালটির আসল চেহারার বেশ কয়েকটি অসামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন: আসল ভবনে পাঁচটি জানালা, এআই দিয়ে বানানো ছবিতে চারটি। সাইনবোর্ডের লেখা ও ডিজাইন আলাদা। অ্যাম্বুলেন্সে নাম ছাড়া আর কিছু লেখা নেই, যা বাস্তবের অ্যাম্বুলেন্সে থাকে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—ছবিটি যখন এআই শনাক্তকারী টুল ‘সাইটইঞ্জিন’-এ যাচাই করা হয়, তখন এতে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ দেখায়।
এদিকে, একদিন আগেই ‘সকাল সন্ধ্যা’ নামের এক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ফেসবুকে দাবি করেন, তার এক বন্ধু নাকি ওবায়দুল কাদেরকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে দেখেছেন। এর পর থেকেই গুজব আরও গাঢ় হয়।
তবে ছড়ানো ছবিটি যে বাস্তব নয়, তা এখন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণেই প্রমাণিত। রাজনৈতিক আলোচনার উত্তাপের মধ্যেই এই এআই-generated ছবি নিয়ে এখন চলছে নতুন বিতর্ক।