ডেস্ক নিউজ : বরাবরের মতো বর্ষবরণ আয়োজন করবে ছায়ানট। এবারের আয়োজনটি হবে ২ ঘণ্টার। এই সময় মুক্তির গান গাইবেন তারা। শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা।
ছায়ানট এবার ৫৮তম বর্ষবরণের এই আয়োজন করছে। ১৯৬৭ সালে নগরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল ছায়ানট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখেই সে অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে এবারই প্রথমবার নিজেদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সনজীদা খাতুনকে ছাড়া বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে ছায়ানট।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা, যুগ্ম সম্পাদক পার্থ তানভীর নভেদ্ ও জয়ন্ত রায়। এ সময় জানানো হয়, পহেলা বৈশাখ নতুন বছরের প্রথম দিন ভোর সোয়া ৬টায় আয়োজন শুরু হবে। ছায়ানটের এবারের আয়োজনের বার্তা, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।’
লিখিত বক্তব্যে লাইসা আহমদ লিসা বলেন, বিশ্বব্যাপী যেমন ক্ষয়ে চলেছে মানবতা, তেমনি এ দেশেও ক্রমান্বয়ে অবক্ষয় ঘটছে মূল্যবোধের। তবুও আমরা আশাহত হই না, দিশা হারাই না, স্বপ্ন দেখি হাতে হাত রেখে সকলে একসঙ্গে মিলবার, চলবার। বাঙালি জাগবেই, সবাই মিলে সুন্দর দিন কাটানোর সময় ফিরবেই। সার্থক হবেই হবে, মানুষ-দেশ, এ পৃথিবীকে ভালোবেসে চলবার মন্ত্র।
তিনি জানান, এবারের অনুষ্ঠানটি ৯টি সম্মেলক, ১২টি একক গান এবং ৩টি পাঠ দিয়ে সাজানো হয়েছে। সবমিলিয়ে দেড়শতাধিক শিল্পী এ আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। রমনা উদ্যান থেকে এই আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ছায়ানট তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ থেকেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক জানান, বরাবরের মতোই নতুন বাংলা বছরকে বরণ করার এই আয়োজন সুষ্ঠু রাখতে অক্লান্ত সেবা দিয়ে চলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, এই প্রথম ছায়ানট বর্ষবরণ আয়োজন করছে, যখন সনজীদা খাতুন নেই। তার যে চিন্তা, আমরা যেন ছড়িয়ে দিতে পারি। আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে করতে পারা এবং বর্ষবরণের মর্মবাণী সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারাটাই হবে সনজীদা খাতুনকে শ্রদ্ধা জানানো।
কিউএনবি/আয়শা/১১ এপ্রিল ২০২৫,/রাত ১১:১২