সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন

২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা: মাহদী আমিন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫২ Time View

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এবার ২২ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। সরকারের লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ শিক্ষার্থী যেন পরবর্তী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে সারা দেশব্যাপী ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ এর ভেতরে অংশগ্রহণ করে। 

তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের  ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রাথমিক গোল্ড ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র এ কথা জানান। 

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন, সে অনুযায়ী আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের বাইরেও সৃজনশীল এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলের যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ে তাদের মাধ্যমে কিন্তু আমরা একটা বিপ্লব সৃষ্টি করেছি ক্রীড়া ক্ষেত্রে।

অনেকেই সেভাবে লক্ষ্য করেননি যে এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ১১ লাখের বেশি ছাত্রছাত্রী ৬৫,৩৪২ স্কুল থেকে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এ প্রায় ১১ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী, তারা গ্রাম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছেন।  

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আপনাদেরকে আহবান জানাবো এ শিশুদের যে স্পোর্টস পার্টিসিপেশন রয়েছে সেটাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য।মিডিয়া থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে তাদেরকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবেন। শিশুরা যখন দেখবে এ ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার কারণে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, আপনারা তাদেরকে ফিচার করছেন, হাইলাইট করছেন স্বাভাবিকভাবেই তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। প্রথম বছরে আমরা  ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। চলমান এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আমরা এই সংখ্যাটাকে অনেক বাড়াতে পারবো।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী  আমাদের মূল উদ্দেশ্য যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, তাদেরকে যেন বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারি। রিয়েল ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেক্টিভিটি থাকবে। আরও বেশি ইন্টার্নশিপ এবং এপ্রেন্টিসশিপ থাকবে। বিশেষত প্রাইমারি স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ফোর থেকে দুইটা নতুন সাবজেক্ট ইন্ট্রোডিউস করছি। একটা সাবজেক্টের নাম হচ্ছে স্পোর্টস, আরেকটা সাবজেক্ট হচ্ছে কালচার। অর্থাৎ শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া এই তিনের সমন্বয়েই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে তাদের ভেতরে টিম স্কিল ডেভেলপ করবে, ডিসিপ্লিন ডেভেলপ করবে, ইন্টারপার্সোনাল এবং ট্রান্সফারেবল স্কিল ডেভেলপ করবে। 

তিনি বলেন, ক্লাস সিক্স থেকে আমরা আরো দুটি নতুন সাবজেক্ট শুরু করতে চাইছি। আগামী শিক্ষাবর্ষে একটা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অর্থাৎ একটা আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ক্লাসে জোর করে পড়ানো হবে না। পুথিগত শিক্ষাকে পেরিয়ে একসঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে বিদ্যা অর্জন করবে এবং আরেকটা কোর্স শুরু করতে যাচ্ছি আমরা। সেটা হচ্ছে ‘টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’। সেটা এ মুহূর্তে আছে কিন্তু প্রত্যেকের জন্য ম্যান্ডেটরি না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস সিক্স থেকে সবার জন্য প্রাথমিকভাবে থিওরিটিক্যালি এবং এইট অনওয়ার্ড অবশ্যই প্রত্যেকটা স্কুলে যখন ধারাবাহিকভাবে আমরা ল্যাব স্থাপন করতে পারি এবং টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশন বা কারিগরি শিক্ষার যেন সকল শিক্ষার্থী এনজয় করতে পারে, প্রাক্টিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে সে ধরনের একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আরেকটা লক্ষ্য রয়েছে যার প্রতিফলন হিসেবে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত আমরা স্টার্ট-আপ সাইন্স, প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং এর একটা কম্পিটিশন আয়োজন করছি। ইতোমধ্যে এখানে আমরা দেখেছি ১২ হাজার টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২ হাজার টিমের প্রত্যেকটাতে তিনজন করে স্টুডেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার স্টুডেন্ট এবং দুইজন করে টিচার অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার টিচার এখানে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোক্তামূলক চিন্তাভাবনা কী কী রয়েছে, খুব ভালো বৈজ্ঞানিক কি ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা চেষ্টা করছি যে, কীভাবে কমার্শিয়ালাইজ করতে পারি? ফান্ডিং প্রোভাইড করতে পারি? তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারি।

তিনি বলেন, এখানে যে ফাইনাল হবে ২৯ তারিখে, সে অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। সেখানে ১০০ টি টিম থাকবে এবং ১০০টি টিমকে উনি পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবেন, স্বীকৃতি দিবেন, বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। সেই একই অনুষ্ঠানে কিন্তু আমরা একসাথে দেশ জুড়ে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছি এবং আমাদের সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৯ হাজার ৬৩১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে একটি বড় অংশ ভার্চুয়ালি থাকবে এবং ফিজিক্যালি প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন প্রসঙ্গে তার এ উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে প্রণীত যে ইশতেহার রয়েছে, সেখানে জাতি বিনির্মাণের জন্য যে ইতিবাচক উদ্যোগগুলো রয়েছে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি, গণশিক্ষা কার্যক্রম, শিশু কিশোরদের পাশে থাকা -এ ধরনের বহুমুখী উদ্যোগে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে সম্পৃক্ত করতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ তোমরাই গড়ে তুলবে সুতরাং আমাদের এ ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা যেন মানবিক, মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং বলিষ্ঠ নৈতিক চরিত্র ছোটবেলা থেকে শিক্ষণ পায়, সেজন্যই শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন গুলো নিয়ে আসছি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম তথা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস, স্পোর্টস এবং কালচারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা- যেখানে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, শহর এবং গ্রামের মাঝে শিক্ষার যে পার্থক্য, বিভেদ বা বৈষম্য রয়েছে সেটি কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, তিনি সার্টিফিকেট নির্ভর কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যার মাধ্যমে আমাদের শিশু-কিশোর, তরুণ- তরুণীদের মাঝে আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারী হিসেবে নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে, সামাজিকতা, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা গড়ে উঠবে। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি চান, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতরে আমরা ডিসিপ্লিন, ইন্টিগ্রিটি, ভ্যালুজ, প্রিন্সিপালস এগুলো তৈরি করতে পারব। যার লক্ষ্য হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি যে, দেশের প্রতিটি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এগুলোতে প্রাধান্য দিচ্ছি। 

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেন, একই সঙ্গে দেশজুড়ে স্পোর্টস এবং কালচারের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার মিশ্রণ পাঠাচ্ছি। আমরা একদম তৃণমূলের গ্রামীণ স্কুল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দেশব্যাপী কম্পিটিশন শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য বিতর্ক, সাইন্স ফেস্টিভাল, উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের ইনোভেটিভ আইডিয়াকে নিয়ে এবং স্পোর্টসের বিভিন্ন ধারা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেন সে ধরনের সৃজনশীলতা ভূমি প্রকাশ করাতে পারি। স্টুডেন্টদের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ শুরু করেছি স্পোর্টসের জন্য, কালচারের জন্য, সামনে ইনশাআল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শুরু হবে। আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে যেন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তাদেরকে যেন দক্ষ, যোগ্য এবং কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তার জন্য আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit