বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

‘রবিনহুড’ নটিংহ্যাম লুটেই যাচ্ছে কিন্তু কাউকে দিচ্ছে না

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৬৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : নটিংহ্যামের শেরউড জঙ্গলে বাস করতেন দুর্ধর্ষ রবিনহুড। ইংল্যান্ডের লোককাহিনীর এই নায়ক ধনীদের সম্পদ লুট করে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টও বড় ক্লাবগুলোর পয়েন্ট ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। তবে পার্থক্য হচ্ছে, সেই পয়েন্টগুলো ছোট ক্লাবকে আবার বিলিয়ে দিচ্ছে না। ফলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপার দৌড়ে অবতীর্ণ হয়েছে ক্লাবটি।

এই তো গতকাল সোমবার (৬ জানুয়ারি) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় উলভারহ্যাম্পটনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নোটিংহ্যাম ফরেস্ট। মর্গান গিবস হোয়াইট, ক্রিস উড এবং তাইও আওনিয়ির গোলে বড় জয় পায় দলটি। আর এই জয়ে ২০ ম্যাচে ১২ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে উঠেছে নটিংহ্যাম। আর্সেনালের সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তিনে তারা। এই মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলে শুধু লিভারপুলই তাদের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের এই রবিনহুড এই মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলে চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবকে পেছনে ফেলেছে। আরেক জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে ১৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। লিগে টানা ছয় ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। ১৯৬৭ সালের পর প্রথম টানা এতোগুলো ম্যাচ জিতেছে দলটি। উলভসদের হারানোর আগে এভারটন, টটেনহ্যাম, ব্রেন্টফোর্ড, অ্যাস্টন ভিলা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছে তারা। এই ম্যাচগুলোতে ১৩ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৩ গোল! চলতি মৌসুমে লিভারপুল মাত্র একটি ম্যাচই হেরেছে। তাদের হারানো দলটির নাম নটিংহ্যাম ফরেস্ট!
অথচ এই দলটাই গত মৌসুমে অবনমন এড়াতে লড়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগে ৪ পয়েন্ট গচ্ছাও দিতে হয়েছিল তাদের। সব মিলিয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে থেকে শেষ করেছিল তারা। আরেকটু পা হড়াকালেই তাদের এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার কথা ছিল। অথচ সেই ক্লাবটিই এই মৌসুমে শিরোপার জন্য লড়ছে। এই রূপকথার পেছনে আছেন ক্লাবটির পর্তুগিজ কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তোর কৌশল আর লাবটির গ্রীক মালিক এভাঞ্জেলোস মারিনাকিসের স্থির লক্ষ্য।

মারিনাকিস যুগ: ২০১৭ সালে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে কুয়েতি মালিক আল হাসাউয়ির কাছ থেকে কিনে নেন গ্রিক ধনকুবের এভাঞ্জেলোস মারিনাকিস। লাবের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান নিকোলাস রান্ডাল। মারিনাকিস আর রান্ডাল ক্লাবটির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছিলেন, তারা পাঁচ বছরের মধ্যে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে ইউরোপিয়ান ফুটবলে ফিরিয়ে আনতে চান।

তবে সে সময় ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ক্লাবটিকে ঘিরে তারা যে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন তা ব্যর্থ হওয়ায় লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে পড়ে তারা। মারিনাকিস আমলের প্রথম চার বছরে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা তো দূরের কথা ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগেই জায়গা করে নিতে পারেনি নটিংহ্যাম ফরেস্ট।

অবশেষে ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের প্লে-অফে জায়গা করে নিতে পারে ফরেস্ট। প্লে-অফের ফাইনাল জিতে পরের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলার টিকিট পায় তারা, ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের পর ফের প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেয় নটিংহ্যাম ফরেস্ট।
নটিংহ্যাম ফরেস্টকে বদলে দিয়েছেন নুনো এসপিরিতো সান্তো। ছবি: প্রিমিয়ার লিগ

নুনো এসপিরিতো সান্তো যুগ: প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নিয়ে একের পর এক খেলোয়াড় কিনে রীতিমতো হাস্যরসের কারণ হয়েছিল ক্লাবটি। মোট ২১ জন খেলোয়াড়কে কেনে তারা। কিন্তু প্রথম মৌসুমে প্রত্যাশামতো ফল না আসায় চাকরি হারান কোচ স্টিভেন কুপার। নতুন কোচ হন সদ্যই সৌদি ক্লাব আল ইত্তিহাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া পর্তুগিজ কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তো।প্রথম দুই মৌসুমেই কোনোমতে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকে নটিংহ্যাম। ২০২২-২৩ মৌসমে ১৬তম এবং পরের মৌসুমে ১৭তম হয় তারা।


প্রিমিয়ার লিগে এর আগে উলভারহ্যাম্পটন এবং টটেনহ্যামের মতো ক্লাবকে কোচিং করিয়েছেন সান্তো। উলভারহ্যাম্পটনে তো রীতিমতো পর্তুগিজ কলোনিও খুলে বসেছিলেন। কিছু সাফল্যও পেয়েছিলেন তিনি। তবে চলতি মৌসুমে নটিংহ্যাম তার অধীনে যা করে দেখাচ্ছে তা রূপকথাই বলতে হয়।

তারকা: মর্গান গিবস-হোয়াইট, মুরিলো, নিকোলা মিলেনকোভিচ, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, অ্যান্তনি এলেঙ্গা, ক্রিস উডরা সান্তোর কৌশলে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছেন।
নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাইকার ক্রিস উড প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিস উড: নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাইকার ক্রিস উড এই মৌসুমে ফরেস্টের উত্থানের অন্যতম নায়ক। লিগে ১২ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছেন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ২০২৩ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেয়া উড এই মৌসুমে ফক্স ইন দ্য বক্সের ভূমিকায় দারুণ করছেন। সুযোগ সন্ধানী এই স্ট্রাইকার সতীর্থদের বানিয়ে দেয়া সুযোগ খুব একটা নষ্ট করেননি।

মুরিলো-মিলেনকোভিচ জুটি: নটিংহ্যাম ফরেস্টের সাফল্যের পেছনে তাদের রক্ষণভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলতি মৌসুমে ২০ ম্যাচে মাত্র ১৯ গোল হজম করেছে তারা। শুধু আর্সেনালই প্রিমিয়ার লিগে তাদের চেয়ে কম গোল হজম করেছে। আর এই নিশ্ছিদ্র রক্ষণের নায়ক ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মুরিলো এবং তার সার্বিয়ান সঙ্গী নিকোলা মিলেনকোভিচ। গত মৌসুমে তো ফরেস্টের সেরা খেলোয়াড়ই হয়েছিলেন মুরিলো। গত মৌসুমই প্রিমিয়ার লিগে এই সেন্টারব্যাকের অভিষেক মৌসুম ছিল। চলতি মৌসুমেও সেরা ফর্মে আছেন তিনি। যার প্রেক্ষিতে লিগের বড় দলগুলোর নজরে আছেন তিনি।
 

ফরেস্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক মুরিলো। ছবি: সংগৃহীত

সঙ্গী মিলেনকোভিচও এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা সেন্টারব্যাক। এছাড়া দলের অধিনায়ক মর্গান গিবস-হোয়াইট, তরুণ এলিয়ট অ্যান্ডারসন, অ্যান্তনি এলেঙ্গারাও ফরেস্টের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। চলতি মৌসুমের বাকি অংশে চলমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয়াটা ১৯৭৮-৭৯ এবং ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জেতা ফরেস্টের জন্য সময়ের ব্যাপার। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৭ জানুয়ারী ২০২৫,/রাত ৯:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit