ডেস্ক নিউজ : সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এখনও যাত্রার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) একাত্তরকে এই তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রার খবর যথাসময় জানিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যাডামের বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে কে, কী বলছেন আমি জানি না। তারা কোন প্রেক্ষাপটে সাত জানুয়ারির কথা বলছেন সেটিও আমি জানি না। তবে জানুয়ারির প্রথমার্ধে তার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাত জন চিকিৎসকসহ ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবেন।
সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়া আমেরিকার ভিসার জন্য দেশটির ঢাকার দূতাবাসে যান। সেখানে ভিসার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আসেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত মামলায় কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এরপর ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেয় তৎকালীন সরকার।
তবে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না— এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। যার ফলে, কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন তিনি। এই সময়ে বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া। ৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, হৃদ্রোগ, লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে ভুগছেন।
২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেয় তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড। তারপর থেকে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করে তার পরিবার। কিন্তু প্রতিবারই আইনের দোহাই দিয়ে অনুমতি দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ ডিসেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৫:০৫