আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটি জুড়ে চলছে ক্ষমতা দখলের ভয়ানক খেলা। দেশটির অধিকাংশ জনগণই প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানালেও, আগামীতে তাদের স্বার্থ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এদিকে, ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে সিরিয়া থেকে লেবাননে পালিয়ে যাচ্ছে হাজারো শিয়া মুসলিম। এছাড়া, এরিমধ্যে যারা লেবানন ও তুরস্কে চলে গেছে, তারাও আবার দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন, শিয়াদের আলাউই সম্প্রদায়।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সিরিয়ায় আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে এক লাখেরও বেশি মানুষ উত্তর সিরিয়ার কুর্দি-শাসিত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীদের ক্রমবর্ধমান লড়াই ও প্রতিশোধমূলক হামলার ভয়ে পালিয়ে গেছে।
সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন হলেও, একক কোনো গোষ্ঠীর হাতে নেই দেশটির নিয়ন্ত্রণ। প্রধান তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে মূলত রয়েছে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ। যারা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে রেখেছে। বাশার আল-আসাদের পতনে ভূমিকা রেখেছে হায়াত তাহরির আল-শাম-এইচটিএস। এতে তাদের সাথে ছিল আরও কয়েকটি গোষ্ঠী। সম্প্রতি তারা দামেস্কসহ দেশটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করে রেখেছে।
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের হাতে। এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বেশ কিছু এলাকা সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টায় কিছু স্থানে সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়েছে। তুরস্কের সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল।
সম্প্রতি, সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্ত দিয়ে হাজারো মানুষ সিরিয়া ছেড়ে লেবাননে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। লেবানন কর্তৃপক্ষ বলছে, সিরিয়া থেকে যেসব মানুষেরা পালিয়ে এসেছেন তাদের বেশিরভাগই শিয়া মুসলিম। দামেস্কের নতুন শাসকদের কাছ থেকে তারা নিরাপদ বোধ করছেন না।
তারা বলছে, বিদ্রোহীরা আমাদের বাড়ি থেকে চুরি করছে, মানুষকে হত্যা করেছে এবং অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমরা ঘরে এক মিনিটও ঘুমাতে পারছি না। চার দিন ঘুম, খাবার ছাড়াই, লেবাননে পালিয়ে যেতে হয়ে হয়েছে আমাদের। তবে, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে আমরা লেবাননেও থাকতে চাই না।
তাদের মধ্যে অনেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, কখনও ব্যক্তিগত, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এর আগে এক লাখেরও বেশি মানুষ অবৈধ ভাবে লেবাননে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, এখানে যুদ্ধ সিরিয়ার সরকার ও হায়াত তাহরির আল-শামের মধ্যে শুরু হলেও, এর তিন চার দিন পরেই আমরা বোমা হামলার শিকার হই। তবে, হঠাৎ করেই এক নেতার উচ্ছেদের নির্দেশ আমাদের অবাক করে দিয়েছে। তিনি এইচটিএস নাকি অন্য কোন গোষ্ঠীর সদস্য এই বিষয়ে আমরা জানি না।
এছাড়া, বাশারের পতনের পর এই সপ্তাহে লেবানন এবং তুরস্কে চলে যাওয়া হাজারো বেসামরিক সিরিয়ায় ফিরে গেলেও। অনেকেই দেশটিতে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলছেন, সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া না পর্যন্ত তাদের পক্ষে কোন ভাবেই দেশটিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব না।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ ডিসেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৪০