মাইদুল ইসলাম মুকুল ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কালজানী নদীর দক্ষিণ ধলডাঙ্গা ঘাটপাড় এলাকায় তীব্র নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় নিজ উদ্যোগে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ বার বার সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাননি তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিলখুড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী বালু ভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে নদীর তীর রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছে। এলাকাবাসী জানায়, গত ৪ মাস ধরে এ অঞ্চলে দুধকুমার নদের অব্যাহত ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে তিন শতাধিক ঘর বাড়িসহ একরের পর একর ফসলি জমি। এ অবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে বার বার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছে ভাঙ্গল কবলিত এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে নিজেদের অর্থ দিয়ে সেচ্ছাশ্রমে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন তারা।
দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকার মনছেদ আলী বলেন, ভাঙন রোধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আমরা নিজেরা কাজ শুরু করছি। গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্লাস্টিকের বস্তা কিনে বালু ভরে নদীতে ফেলছি। তার পরেও ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহযোগিতা পেলে এলাকাটি রক্ষা পেত। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম ফরিদুল হক শাহিন শিকদার বলেন, কালজানি নদী গত ২-৩ মাস ধরে অব্যাহত ভাঙছে। প্রায় ৩শ এর উপর বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। কয়েকশো হেক্টর ফসলী জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙন রোধ করা না হলে পাশ্ববর্তী তিনটা বিজিবি ক্যাম্প হুমকিতে পরবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, শিলখুড়ি এলাকায় কালজানিসহ অন্যন্য নদীর ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে সার্বিকভাবে কৃষি জমি ও সামান্য বাড়ি ঘরের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। বরাদ্দ কিংবা অনুমতি না থাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তিনি।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:১৫