লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : জেনারেশন আলফা হলো জেনারেশন জেড-এর পরে আসা প্রজন্ম, এবং এদের প্রভাব প্রযুক্তির যুগে বেড়ে ওঠার ফলে বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। জেনারেশন আলফার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য জানা গেছে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অফ হ্যানয়ের ওয়েবসাইড থেকে-
১. প্রযুক্তির সাথে নিবিড় সম্পর্ক: জেনারেশন আলফা ডিজিটাল নেটিভ। তারা জন্মের পর থেকেই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, এবং ইন্টারনেটের জগতে বড় হচ্ছে। তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা যেকোনো তথ্য দ্রুত পেতে অভ্যস্ত এবং অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, ভিডিও কন্টেন্ট এবং গেমিং খুবই জনপ্রিয়।
২. উচ্চ শিক্ষার প্রত্যাশা: এই প্রজন্মের কাছে শিক্ষার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে অধিক প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তারা প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখতে আগ্রহী। ভার্চুয়াল ক্লাস, অনলাইন টিউটরিং এবং এডুটেইনমেন্ট (শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বয়) তাদের শেখার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
৩. বহুমুখী মেধার বিকাশ: জেনারেশন আলফা নিজেদের বহুমুখী ও ক্রিয়েটিভ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। তারা ছোটবেলা থেকেই ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি, গেমিং, এবং কোডিং-এর মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে।
৪. পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা: জেনারেশন আলফা পৃথিবীর পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। তাদের পরিবার এবং স্কুলের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতাকে মূল্য দেয়া হচ্ছে। তারা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, রিসাইক্লিং, এবং টেকসই জীবনধারার ব্যাপারে বেশি সচেতন হতে পারে।
৫. সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন: তাদের সামাজিকীকরণ অনেকটাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঘটে। তারা মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সংযোগ রক্ষা করে। ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব এবং গ্লোবাল কানেক্টিভিটির কারণে তাদের সামাজিকীকরণ আগের প্রজন্মের চেয়ে আলাদা হতে পারে।
৬. স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতনতা: বর্তমান প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে আরও সচেতন। ফিটনেস ট্র্যাকার, স্বাস্থ্য অ্যাপ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধি এই প্রজন্মের কাছে পরিচিত বিষয়।
৭. পরিবারের ছোটকাঠামো: জেনারেশন আলফার বেশিরভাগ শিশু ছোট পরিবারে বড় হয়। এদের বাবা-মা জেনারেশন ওয়াই (মিলেনিয়াল), যারা প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সাধারণত ক্যারিয়ার ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। এই প্রজন্মের সন্তানরা নিজেদের স্বতন্ত্র এবং গুরুত্ব বেশি পায়, কারণ তাদের পরিবারে সন্তান সংখ্যা কম হয়।
৮. কাজের পরিবেশের পরিবর্তন: ভবিষ্যতে জেনারেশন আলফার কর্মজীবন খুব ভিন্ন হবে। বর্তমানের কর্মক্ষেত্র ডিজিটালাইজড হওয়ায় তারা রিমোট ও ফ্রিল্যান্স কাজের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। এআই এবং অটোমেশন তাদের কাজের ধরন ও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ১১:২৫