এম এ রহিম, চৌগাছা, (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথিত সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযানের হুমকি দিয়ে মোবাইল। সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে দূর্নীতি বিরোধী অভিযান চালানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। এদিকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
চৌগাছা সরকারি শাহাদাৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর বৃহ¯পতিবার একটি অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে আমাকে বলা হয় আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলছি, আমরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার আপনার স্কুলে আসছি, কতজন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কত টাকা নিয়েছেন তা হিসেব রাখবেন এই কথা বলে লাইন কেটে দেয়।
পরবর্তীতে সাগর নামে শহরের একজন ওয়েলডিং মিস্ত্রি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, স্যার ছাত্র সমন্বয়করা তো আপনার স্কুলে গিয়ে নানা রকম ঝামেলা করতে চাচ্ছে, আমি ঠেকিয়ে রেখেছি বোঝেন তো তারা কি চাই…..। এ ঘটনার পর রবিবার ও সোমবার প্রচন্ড বৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা, চৌগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান ও সাধারণ স¤পাদক এম এ রহিম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, শিক্ষক নেতা ও চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদসহ অনেক অভিভাবককে বিষয়টি জানান।
তবে ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বিদ্যালয় চলাকালীন সময় পর্যন্ত কোন ছাত্র সমন্বয়করা বিদ্যালয়ে যাননি। ছুটির আগমুহূর্তে সোহান নামে একজন ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানকে বলেন, স্যার আমাদের নাম ব্যবহার করে অনেকে আপনাকে ডিস্টার্ব করছে, এসবের সাথে আমার বা আমাদের কোন সর্ম্পক নেই। কেউ আসলে আমাদেরকে জানাবেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে গত ১৪ আগস্ট কথিত কতিপয় ছাত্র সমন্বয়ক শতাধিক অছাত্র সাথে করে নিয়ে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দূর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় তারা প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের নিকট থেকে জোরপূর্বক ৫২ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ছাত্রদের অভিযোগ সাতজন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রধান শিক্ষক এটাকা আত্মসাৎ করেছেন। অথচ প্রধান শিক্ষক বারবার দাবী করছেন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপার দেখভাল করেছেন তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম। কিন্তু ছাত্ররা সকল দায়ভার প্রধান শিক্ষকের উপর চাপিয়ে দিয়ে ৫২ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে তাকে পদত্যাগ পত্র লিখতে বাধ্য করেন। ঘটনার দিন রাতে প্রধান শিক্ষক মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকাতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনার কয়েকদিন পর একই গ্রুপ হাকিমপুর মহিলা কলেজে কথিত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম বিপুর কাছ থেকেও জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহার নিকট লিখিত ভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার মরহুম পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম দুই বিঘা জমি দান করে এ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছিলেন। অথচ আজ কথিত ছাত্র সমন্বয়কারী সেজে আমাকে অপমান অপদস্ত করে পদত্যাগ করানো হয়েছে।
কথিত ছাত্র সমন্বয়কারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ বলেন, এ ধরনের কার্যকলাপ করার কোন সুযোগ নেই। কেননা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। চৌগাছা জিসিবি আর্দশ কলেজের অধ্যক্ষ ও চৌগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু জাফর বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অথোরিটি আছে তারা দেখবেন প্রতিষ্ঠানে কোথায় অনিয়ম বা দূর্নীতি হয়েছে। সবাই যদি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বাণিজ্য ওদূর্নীতি ধরতে যায় তাহলে তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
চৌগাছা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক বাবুল আক্তার বলেন, চৌগাছায় তো ৫ আগস্টের আগে একদিনও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলন হয়নি। তাহলে এতোসমন্বয়কারী কোথা থেকে এলো বুঝলাম না। তিনি আরো বলেন, আজ যারা সমন্বয়কারী পরিচয় দিচ্ছেন তাদের অনেকে তো বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে অনেক অপকর্মে জড়িত ছিল, তাদের সে সব অপরাধ তো চৌগাছাবাসী ভুলে যায়নি। তিনি এসব বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসনের (যৌথ বাহিনীর) হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, হাকিমপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম বিপু একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন যে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়েছে। চৌগাছা সরকারি শাহাদাৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান সাহেব ও আমাকে জানিয়েছেন যে, ১২ সেপ্টেম্বর বৃহ¯পতিবার একটি অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে আমাকে বলা হয় আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলছি, কতজন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কত টাকা নিয়েছেন তা হিসেব রাখবেন এই কথা বলে লাইন কেটে দেয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৫:৪৪