স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তানের মাটিতে টাইগারদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পেসাররা। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ১০ উইকেটই শিকার করেছেন টাইগারদের তিন পেসার। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদরা তো ভালো করেছেনই, গতি দিয়ে চমকে দিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানাও। ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগেও আলচনায় বাংলাদেশের পেস ব্যাটারি। যদিও পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের উইকেট ও কন্ডিশন আলাদা এবং এখানে স্পিনাররা বেশি সাহায্য পেয়ে থাকেন। তারপরও নাহিদ রানার মতো গতিশীল পেসারকে সামলাতে বিশেষ অনুশীলন করেছে ভারত।
বাংলাদেশের এই পেস বোলিং বিপ্লবে মুগ্ধ ভারতের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ মাঠে গড়ানোর আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশি পেসারদের প্রশংসা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, তাদের পেস আছে। নাহিদ রানা দারুণ এক্সাইটিং একজন বোলার যারা বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি উঠে এসেছে তাদের মধ্যে। দারুণ পেস আছে তার বলে। পাকিস্তানি অনেক ভালো ব্যাটারকে সে আউট করেছে। হাসান মাহমুদও অনেক উইকেট তুলেছে পাকিস্তানে। তাসকিন আহমেদের সামনেও সুযোগ আছে এখানে এসে সবাইকে দেখানোর যে তাকে কেন এতটা মূল্যায়ন করা হয়। তার বলেও ভালো পেস আছে। ৩ জন দারুণ পেসার আছে।’
হার্শা প্রশংসা করেছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজেরও। তার মতে, মুশফিক ও সাকিবের যোগ্য বিকল্প হয়ে উঠছেন লিটন-মিরাজ। এ বিষয়ে হার্শা বলেন, ‘ লিটন দাস এবং মেহেদী হাসান মিরাজ বড় দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত আছে। সাকিব কতদিন খেলবে আমি জানি না। আমার মনে হয় সে শেষের অনেক কাছাকাছি চলে গিয়েছে। মুশফিকুর রহিমের ক্ষেত্রেও এমনটা বলব তবে তার ব্যাটিং অনেক ভালো হচ্ছে।
যদি এই দুইজন বিদায় নেয় তাহলে লিটন এবং মেহেদীর মধ্যে তারা সঠিক রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাবে। ৫-৮ নম্বরের দিকে দেখুন মুশফিক, সাকিব, লিটন, মিরাজরা ১ ধাপ নিচে খেলছে যেখানে তারা খেলতে পারে তার থেকে। টেস্ট ক্রিকেটে আপনি এই বিষয়টি দেখবেন যে ব্যাটাররা কি বেশি উপরে ব্যাট করছে নাকি নিচে করছে। বাংলাদেশের এই লাইনআপে সবাই তাদের সামর্থ্যের কিছুটা নিচে নেমে ব্যাট করছে এবং এটাই নির্দেশ করছে তাদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা কতখানি।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে ওপরের দিকের ব্যাটারদের রান পেতে হবে বলে মনে করেন হার্শা। বিশেষ করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হকের কাছে ভালো ইনিংস আশা করছেন তিনি, ‘দুইজনের কাছ থেকে বিশেষ করে যারা ভালো টেস্ট প্লেয়ার – অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যে ভালো প্লেয়ার কিন্তু এখন রান পাচ্ছে না এবং মুমিনুল হক, যে কিনা অনেক দিন ধরে টেস্টে খেলে আসছে। ফলে এই দুজনকে রান করতে হবে সাথে ওপেনিং থেকেও রান পেতে হবে।
পাকিস্তানের সাথে রান তাড়ায় জাকিরের ব্যাটিং ভালো লেগেছিল আমার। সাদমান ইসলাম হয়ত আরও একটু আশা করা যায়। মাহমুদুল হাসান জয়ও ছিল, তবে সে চোটে ছিল কিছু সময় ধরে। শীর্ষ চার যদি রান না পায় তাহলে নিচের ব্যাটারদের উপর চাপ পড়ে। এখানেই বাংলাদেশের বড় পরীক্ষাটা হতে যাচ্ছে।’বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত টার্নিং উইকেট বানাবে না বলেই বিশ্বাস হার্শার। বরং ব্যাটিং উইকেট বা পেস নির্ভর উইকেটেই বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হতে পারে বলে বিশ্বাস এই ধারাভাষ্যকারের, ‘আমার মনে হয় না বাংলাদেশের মত টার্নিং উইকেট এখানে পাবে, ভারত এটা দেবে না তাদের।
এটা করলে দুই দলের মাঝে তফাত কমে যাবে। কারণ বাংলাদেশের কাছে সাকিব আছে, তাইজুল আছে, মিরাজ আছে তিনজনই দারুণ কোয়ালিটি স্পিনার আছে। যদি পেস উইকেট থাকে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ভারতের বুমরাহ, সিরাজ, সাথে হয়ত আকাশদীপ, দয়ালরাও থাকবে। দারুণ কোয়ালিটিসম্পন্ন পেস এবং বাউন্স ভারত তাদের ছুঁড়ে দেবে। অশ্বিন, জাদেজা থাকবে, কুলদীপ থাকবে কিনা আমি নিশ্চিত নই। ফলে এটা ভালো কোয়ালিটি বোলিং লাইনআপ যার মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে।’
কিউএনবি/আয়শা/১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৪:০০