আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এ ধরনের একটি বলয়ের অস্তিত্ব, যা প্রায় ৪৬৬ মিলিয়ন বছর আগে গঠিত হয়েছিল এবং আরও কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে টিকে থাকতে পারে তা আমাদের গ্রহের অতীত সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা দেয় বলে জানানো হয় গবেষণায়।
পৃথিবীতে বলয়প্রায় ৪৬৬ মিলিয়ন বছর আগে, প্রচুর উল্কা পৃথিবীতে আঘাত করতে শুরু করেছিল। আমরা এটি জানি কারণ ভূতাত্ত্বিকভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অনেকগুলো প্রভাবের গর্ত তৈরি হয়েছিল। আমরা ২১টি উল্কাপিণ্ডের প্রভাবের গর্তের কথা জানি, যা এই উচ্চ-প্রভাবিত সময়ের মধ্যে গঠিত হয়েছিল।
একই সময়ে ইউরোপ, রাশিয়া ও চীনজুড়ে চুনাপাথরের সন্ধান খুঁজে পাওয়া গেছে যেখানে একটি নির্দিষ্ট ধরনের উল্কাপিণ্ড থেকে খুব বড় ধরনের ধ্বংসাবশেষ হয়েছে। এই সময়ে অনেক সুনামিও ঘটেছিল।
গর্তের একটি প্যাটার্ন
টমকিন্স বলেন, আমরা মনে করি এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সম্ভবত একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব প্রমাণের পেছনে সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা হলো আমরা জানি যে পৃথিবীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে একটি বড় গ্রহাণু ভেঙে গেছে। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে নেমে আসে এবং তা থেকেই গর্ত, পলি এবং সুনামির প্যাটার্ন তৈরি হয়।
বলয় কিভাবে কাজ করে
গবেষণায় বলা হয়, শনিই একমাত্র গ্রহ নয় যার রিং রয়েছে। শনির মতো বৃহস্পতি, নেপচুন ও ইউরেনাসেরও তুলনামূলক কম স্পষ্ট বলয় বা রিং রয়েছে। এমনকি কয়েকজন বিজ্ঞানী মনে করেন, মঙ্গলের ছোট চাঁদ ফোবস এবং ডেইমোস, একটি প্রাচীন বলয়ের অবশিষ্টাংশ হতে পারে।
যখন একটি ছোট খণ্ড (যেমন গ্রহাণু) একটি বৃহৎ খণ্ডের (গ্রহ) পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তখন এটি মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা প্রসারিত হয়। যদি এটি খুব কাছ থেকে পাশ কেটে যায় তাহলে ছোট খণ্ডটি অনেকগুলো ছোট টুকরো এবং অল্প সংখ্যক বড় টুকরোয় পরিণত হয়।
তখন এই সমস্ত টুকরোর মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি বা ঝাঁকুনি হয় এবং ধীরে ধীরে বৃহত্তর খণ্ডটি বা গ্রহটি বিষুবরেখাকে প্রদক্ষিণ করে একটি ধ্বংসাবশেষ বলয়ে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে বড় টুকরোগুলোর প্রভাবে গর্ত তৈরি হয়। এই গর্তগুলো বিষুবরেখার খুব কাছাকাছি অবস্থান করে।
সুতরাং পৃথিবী যদি প্রায় ৪৬৬ মিলিয়ন বছর আগের কোনো একটি গ্রহাণু ধ্বংস করে তাহলে তা থেকে সৃষ্টি হওয়া গর্তের অস্বাভাবিক অবস্থান, পাললিক শিলা, এবং সুনামিতে উল্কাপিণ্ডের ধ্বংসাবশেষসহ আরও অনেক কিছুর ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
তখন থেকে মহাদেশীয় প্রবাহের কারণে মহাদেশগুলোর অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ অংশ নিরক্ষরেখার কাছাকাছি হয়েছে। যেখানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অবস্থান উচ্চতর দক্ষিণ অক্ষাংশে।
রিং বা বলয় সাধারণত হয় বিষুবরেখার চারপাশে। যেহেতু পৃথিবীর অক্ষ সূর্যের চারপাশে তার কক্ষপথের দিকে হেলেছে, তাই বলয়টি পৃথিবীর পৃষ্ঠের কিছু অংশকে ছায়া দেয়।
এটি একপর্যায়ে বিশ্বব্যাপী শীতলতার কারণও হতে পারে। কারণ, এতে এক অংশে সূর্যালোক কম পৌঁছাবে।
এটি আকেটি ধাঁধা বলেছেন টমকিন্স। কারণ, প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন বছর আগে, আমাদের গ্রহটি নাটকীয়ভাবে শীতল হতে শুরু করেছিল। ৪৪৫ মিলিয়ন বছর আগে এটি হিরনান্তিয়ান বরফ যুগে ছিল, যা গত অর্ধবিলিয়ন বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা সময়।
পৃথিবী পৃষ্ঠে একটি রিং বা শেডিং কি এই চরম শীতলতার জন্য দায়ী ছিল? আমাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরবর্তী ধাপ হলো গ্রহাণুগুলো কীভাবে ভেঙে যায় এবং বিচ্ছুরিত হয় এবং কীভাবে রিং সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয় তার গাণিতিক মডেল তৈরি করা।
এর মধ্য দিয়ে ধারণা পাওয়া যাবে এ ধরনের একটি রিং বা বলয় কতটা শীতলতা আনতে পারে পৃথিবীতে।
সূত্র: এনডিটিভি
কিউএনবি/আয়শা/১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৩:৫০