শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫০ রান ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কমলগঞ্জে বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে ৫টি কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার জলবায়ুর অভিঘাতে স্কুলে মেয়েদের ঝড়ে পড়া বাড়ছে: ইউনিসেফ বড়পুকুরিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে॥ রাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার দুর্গাপুরে ভারতীয় মদসহ আটক – ০১ দুর্গাপুরে যুবদলের উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বিদেশে রফতানি বন্ধ, তবুও কমছে না ইলিশের দাম

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৪৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : আর তা যদি নয়, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার তবে তো কথা-ই নেই। এখন একেবারেই ভরা বর্ষা। চারদিকে অথৈই পানি। কিন্তু চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার চিরচেনা সেই রূপ নেই। অর্থাৎ রূপালি ইলিশের বিচরণ। জেলেদের জালে কিছু ধরা পড়লেও তা কাঙ্খিত নয়। এতে হতাশায় মলিন মুখের ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে এই জনপদের জেলেদের। আর তার প্রভাব পড়ছে চাঁদপুর শহরের পাইকারি মাছ বাজার বড়স্টেশনেও। 

অতীতে মৌসুমের এই সময় ব্যস্ত বড়স্টেশনের বাজারে প্রতিদিন গড়ে আড়াই শ থেকে ৩০০০ মণ ইলিশ বিপণন হতো। এখন তা নেমে এসেছে ৪০০-৫০০ মণে। এতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম হওয়ায় আকারভেদে দরদামও বেশ চড়া। যে কারণে দেশের বাইরে রফতানি বন্ধ থাকার পরও স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্র চাহিদামতো চালান দেওয়া যাচ্ছে না। জানালেন, মাছ ব্যবসায়ীরা। শনিবার চাঁদপুর বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে সব মিলিয়ে ইলিশের সরবরাহ ছিল ১ হাজার মণ।

ইলিশ মূলত সাগরের নোনা জলের মাছ। তবে ঝাঁক বেঁধে চলা, বিচিত্র স্বভাবের এই মাছ- গভীর সাগর, উপকূল ছেড়ে ঝাঁক বেধে ছুটে আসে নদীর মিঠা পানিতে। তাই নদীর তলদেশে থাকা ফ্লাংটন জাতীয় খাবার খেতে আর ডিম ছাড়ার জন্য উপকূলের নদীগুলো পেরিয়ে মেঘনা থেকে পদ্মা পর্যন্ত ইলিশ ছুটে আসে। আবার ডিম ছাড়ার পর কোনো বাধা না পেলে, ফের ছুটে যায় আপন ঠিকানা সাগরের দিকে। তবে বিশেষ সময় নদীর মিঠা পানিতে রেখে যায় ইলিশের পোনা জাটকাগুলো। 

চাঁদপুরে হাইমচরের চরভৈরবী এলাকার জেলে মানিক দেওয়ান (৫৫)। জানালেন, গত ৩-৪ বছর ধরে-ই মেঘনায় ইলিশের আকাল চলছে। দিনভর ২ দফায় জাল ফেলে ছোটবড় ৪-৫ হালির বেশি ইলিশ মিলছে না। এতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি, ভাগিদারের মজুরি আর সঙ্গে তো মহাজনের ধারদেনা। তাই অভাব তো লেগেই থাকে। এই যদি হয়, চাঁদপুরের প্রবেশপথ মেঘনার দক্ষিণের চিত্র। তাহলে উত্তরের ষাটনল কিংবা পশ্চিমে পদ্মা নদীর চিত্র কি হবে।

তা জানতে পদ্মা ও মেঘনা বেষ্টিত রাজরাজেশ্বরের জেলে আল আমিন বেপারীর (৪০) সঙ্গে কথা হয়। তার সাফ জবাব, দক্ষিণের মাছ উত্তরে না পৌঁছালে আমরা ইলিশ পাবো কোথায়। দিনদিন ইলিশ কমে যাওয়ার জন্য নির্বিচারে কারেন্ট জাল ব্যবহারকেও দূষছেন তারা। এ ২ জেলের কথার সত্যতার সূত্র খুঁজতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয় জেলা শহরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে। মৌসুমের এই সময় যা ইলিশ মাছ পাইকারি দরে বিক্রির মোকাম।

সুমন খান পাইকারি দামে ইলিশ বিক্রেতা। স্থানীয় পদ্মা ও মেঘনা ছাড়াও লক্ষ্মীপুরের রামগতি এবং নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাট থেকে বেপারীরা তার কাছে ইলিশ বিক্রি করেন। মাছ ব্যবসায়ী সুমন খানের ভাষ্য, তার আড়তে ১০০ মণ ইলিশের মধ্যে ৪৮ মণ ইলিশ উপকূলের। আর বাকি ২ মণ পদ্মা ও মেঘনার। তবে বাজারে যে পরিমাণ চাহিদা তার সিকিভাগও যোগান দিতে পারছেন না তিনি। তার মতো মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট বেপারীও ঠিক একই কথা বলেন। তারমধ্যে বাজারে যে পরিমাণ যোগান দেওয়া হচ্ছে। তার বিপরিতে চাহিদা বেশি। তাই বেপারীরা দামও ছাড়ছেন না।

চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শবেবরাত জানান, আকারে ১ কেজির উপরে প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০.০০০ থেকে ৭২.০০০ টাকা। সাড়ে ৯ শ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে প্রতি মণ ৬০০০০ থেকে ৬২০০০ টাকা এবং ৭শ’ থেকে সাড়ে ৮শ’ গ্রামের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ হাজার টাকায়। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি সরকারি আদেশে বিদেশে রফতানি বন্ধ ঘোষণা করা হলেও পাইকারি বাজারে এখন যে পরিমাণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। তা স্থানীয় বাজার এবং রাজধানী ঢাকা ও আরো কিছু জেলায় চালান দেওয়া যায়। এটি পাইকারি চিত্র হলেও আবার ভোক্তা পর্যায়ের অনেকেই সরাসরি ইলিশ ক্রয় করতে বড়স্টেশনে আসেন। বিশেষ করে বন্ধের দিন শুক্র ও শনিবাওে দেখা যায় এমন চিত্র।

ইলিশ গবেষক ও দেশের বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানি ড. আনিছুর রহমান বলেন, বিচিত্র স্বভাব ও পরিভ্রমনশীল মাছ হচ্ছে ইলিশ। তার চলার পথে বাধা, পানিতে দূষণের কারণে খাবারের সঙ্কট দেখা না দিলে গভীর সমুদ্র ছেড়ে উপকূল এবং নদনদীতে ছুটে আসে না। তার ওপর ভারি বৃষ্টিপাত, পানির স্রোত এবং জলবায়ূর প্রভাব তো রয়েছে। তাই সমুদ্রের নোনা পানির এই মাছ এখন গভীর সমুদ্রে-ই অবস্থান করছে। তার গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে এমনটা দাবি করছেন ড. আনিছুর রহমান।

তবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসজুড়ে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়তে পারে। এরমধ্যে আবার অক্টোবরের ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগরের নোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে ছুটে আসবে। তখন অভয়াশ্রমগুলোতে সুরক্ষা দেওয়া গেলে অর্থাৎ ডিম ছাড়ার পরিবেশ পেলে পরবর্তীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।  চলতি বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ লাখ মেট্রিক টন। যা বিগত বছরে ছিল ৫ লাখ ৭১০০০ মেট্রিন টন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ১১:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit