ডেস্ক নিউজ : বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَدِدْتُ أَنِّي لأُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّأُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ”. فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُولُهُنَّ ثَلاَثًا أَشْهَدُ بِاللَّهِ অর্থ: যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! আমি কামনা করি যেন আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি। এতে আমাকে শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয় আবার শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয় আবার শহীদ করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, বাক্যটি তিনি তিনবার বলেছেন। এ ব্যাপারে আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি। (বুখারি: ৬৭৩৩)
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে শহীদি মৃত্যু সম্পর্কে বলেন,
وَ لَا تَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ قُتِلُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ اَمۡوَاتًا ؕ بَلۡ اَحۡیَآءٌ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ یُرۡزَقُوۡنَ অর্থ: আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত। তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে বলেন, আমরা এ আয়াত সম্পর্কে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মাকে সবুজ পাখির পেটে রাখা হয়। আরশের সঙ্গে লটকানো ঝাড়বাতির সঙ্গে যেগুলো অবস্থিত।
অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিকেই শহীদ মনে করা হয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত ব্যক্তি ছাড়া আরও অনেক মৃত ব্যক্তিকে শহীদি মর্যাদা লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এমন সব মৃত ব্যক্তিকেও শহীদ হিসেবে গণ্য করেছেন, যাদের মৃত্যুকে সাধারণত অপমৃত্যু মনে করা হয় (নাউজুবিল্লাহ)। অবশ্য সশস্ত্র যুদ্ধে নিহত শহীদ আর অন্যান্য শহীদের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য থাকবে।
যে মুসলমান আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করবে, কেবল সেই-ই আল্লাহর পথে লড়াই করল। (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত: ৩৮১৪)
অতএব যারা তওহিদের কালেমাকে সমুন্নত করার নিয়তে আল্লাহর পথে লড়াই করে মারা যাবে, তারাই হচ্ছে প্রকৃত শহীদ। আর শহীদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য হবে এই যে, সে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে লড়াই করবে না, তাকে বাহাদুর বলা হবে এ উদ্দেশ্যে বা লোককে শুনানোর উদ্দেশ্যে লড়াই করবে না। (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত:৫৩১৬; মুসলিম, মিশকাত: ২০৫
কিউএনবি/আয়শা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ১০:৫০