শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা পৌরসভার বালুয়াখালী গ্রামের গৃহবধূ মিনা আক্তার(৪০) ও স্বামী বাদল মিয়াকে(৪৫) জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে দেবর সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে। আহতদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার মিনা আক্তার সেলিম মিয়াসহ ৫জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে শনিবার নেত্রকোনা সেনা ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ করেন মিনা আক্তার। অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনা পৌর সভার বালুয়াখালী গ্রামের ফোজদার মিয়া শাহিদা বেগমের ছেলে মো. সেলিম মিয়া ও বাদল মিয়া। সেলিম মিয়া বাবা ও মাকে ভুল বুঝিয়ে বাবার ৩০ শতাংশ জমি অন্যের নিকট বিক্রি করে দেয়।জমি বিক্রির টাকা থেকে ভাই বাদল মিয়া ও বোন শাফলা আক্তারকে বঞ্চিত করে সেলিম মিয়া।
এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মত বিরোধ দেখা দেয়। পরে গ্রাম্য সালিশে বাবার জমি থেকে ২ শতাংশ জমি দেওয়া হয় বাদল মিয়াকে। ওই জমিতে হাফ বিল্ডিং তৈরী করতে গেলে মা শাহিদা বেগম ছেলে বাদল মিয়া ও ছেলের বউ মিনা আক্তারের বিরুদ্ধে গত এক বছরে ৪টি মামলা করে হয়রানী করেন। এরই মধ্যে ওই জমিতে টিনের চালা ঘর করে থাকার জন্য আসবাপত্র রাখা হয়। গত শুক্রবার রাত ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন সেলিম মিয়া। বিষয়টি বাদল মিয়ার ছেলে শ্রাবন মিয়া দেখে চিৎকার শুরু করলে তাকে মারধর কনের সেলিম মিয়া।
পরে বাদল মিয়া ও স্ত্রী মিনা আক্তার আগুন নেভাতে গেলে সেলিম তাদেরকে রামদা দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে আহত করে। এলাকাবাসী রতাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মিনাকে শনিবার রাতে হাসপতাল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে সেলিমের লোকজন। বালুয়াখালী গ্রামের সেলিম মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয় নি।
তাকে পাওয়া যায়নি। বালুয়াখালী গ্রামের বাদল মিয়ার প্রতিবেশী লিপি খান বলেন, জমি নিয়ে সেলিম ও বাদলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। ওইদিন রাতে বাদল ও তার বউকে মারধর করেছে সেলিম। নেত্রকোনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আনিসুর আশেকীন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৪৪