বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন

জাকাত : ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : জাকাত। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি  রোকন। ইসলাম যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে জাকাত তার অন্যতম। ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। 

কোরআন মজিদে বহু স্থানে সালাত-জাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কোরআনের ভাষায় জাকাত

কোরআন মাজিদে বিভিন্নভাবে জাকাতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কখনো সরাসরি জাকাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কখনো মুত্তাকি বা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনার মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে জাকাতের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যারা যথার্থভাবে জাকাত আদায়ে সচেষ্ট থাকে কোরআন মাজিদের তাদের জন্য অনেক পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন (সুরা বাকারা : ১১০)।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় কর, জাকাত দাও এবং রসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার’ (সুরা নূর : ৫৬)।

সুরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আজিম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ইমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’

অন্য আয়াতে জাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (সুরা তাওবা : ১০৩)।

জাকাত না দেওয়ার ভয়াবহতা

ওপরের আলোচনা থেকে জাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায়, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা জাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত- তার শিকার! 

জাকাতের সব সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদের যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তা-ও কোরআন মাজিদে বলে দেওয়া হয়েছে। 

ইরশাদ হয়েছে-আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত (সুরা আলে ইমরান : ১৮০)।

জাকাত কাদের ওপর ফরজ?

সুস্থ মস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২

নিসাবের  ববরণ : স্বর্ণের ক্ষেত্রে জাকাতের নিসাব হলো বিশ মিসকাল। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক  হাদিস ৭০৭৭, ৭০৮২)।

আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ২০০ দিরহাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯)।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ মার্চ ২০২৬,/রাত ১০:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit