জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে শহরের ব্যস্ততম মিশনমোড় গোলচত্বর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মাদক পরিবহনের দায়ে ট্রাকের চালক ও সহকারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ।আটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার ফুলগাছ এলাকার আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে ট্রাক চালক মোঃ রাকু মিয়া (৩০) ও দুরাকুটি এলাকার মৃত মনছুর আলীর ছেলে সহকারী মোঃ লুৎফর মিয়া (২৮)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকে করে মাদকের একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ট্রাফিক সার্জেন্ট রাহুল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মিশনমোড় গোলচত্বরে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে নির্দিষ্ট ট্রাকটি (গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই) ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ সেটিকে থামানোর সংকেত দেয়। পরে ট্রাকটির কেবিনে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।এদিকে এই ঘটনার পর ট্রাকের মালিক শাহ আলমকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এক সময়ের সাধারণ রিকশাচালক শাহ আলম মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কীভাবে ছোট-বড় ১৫ থেকে ২০টি ট্রাকের মালিক হলেন, তা রহস্যজনক। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের পেছনে কি তবে মাদক ব্যবসার যোগসূত্র রয়েছে? এলাকাবাসী অবিলম্বে শাহ আলমের আয়ের উৎস খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযান প্রসঙ্গে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে ট্রাকের কেবিন থেকে গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মাদকের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ওজন করার কাজ চলছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।তিনি আরও জানান, মাদকের গডফাদার বা পর্দার আড়ালের হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিউএনবি/অনিমা/০৯ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩৭