আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ। ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধাণত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়। ইতিপূর্বে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশে আবারও এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এরপর এটি ইউরোপ ও এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমপএক্সের টিকা বা ভ্যাক্সি রয়েছে। তবে যারা ঝুঁকিতে আছে বা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকছে কেবল তারাই এটি পেতে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হলেও জরুরি ব্যবহারের জন্য এমপক্সের টিকাগুলো দেয়ার জন্য সম্প্রতি ওষুধ প্রস্তুতকারকদের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, আফ্রিকার বাইরে ৭০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। এবার এমপক্সের ভ্যাক্সিনের প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে আফ্রিকা। যুক্তরাষ্ট্র ১০ হাজার ভ্যাক্সিন সরবরাহ করছে যা এই অঞ্চলে ভাইরাসের একটি বিপজ্জনক নতুন ধরন মোকাবেলায় ব্যবহার করা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার আগেই এমপক্সের টিকা কেনা শুরু করতে পারবে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) ও ইউনিসেফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। গত শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সংস্থার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে গাভির মতো সংস্থাগুলো নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ভ্যাকসিন কিনতে সাহায্য করে। এসব সংস্থা কেবল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে অনুমোদন পেলেই টিকা কেনা শুরু করতে পারে।
তবে আলোচনার গতি পেতে এবার নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। কারণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এমপক্সের টিকার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ডেনমার্কের বাভারিয়ান নর্ডিকের তৈরি দুটি টিকা এবং জাপানের কেএম বায়োলজিক্সের টিকা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমতি পেয়েছে।
২০২২ সাল থেকে এই টিকাগুলো এমপক্সের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২ লাখ মানুষ ব্যাভারিয়ান নর্ডিকের টিকা পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেপ্টেম্বরে টিকাগুলোর জন্য একটি জরুরি লাইসেন্স প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ অগাস্ট ২০২৪,/রাত ৮:১২