স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত যশোরের মনিরামপুরের র্যামিট্যান্স যোদ্ধাদের মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের অধিকাংশদেরই স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে জানাগেছে। আর এসব র্যামিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখাতে তাদের মরদেহ শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিনামুল্যে ’আমাদের এ্যাম্বুলেন্স’ যোগে মনিরামপুরে স্বজনদের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা মনিরামপুর থেকে প্রায় ৩৫ হাজার র্যামিট্যান্স যোদ্ধা(আয়ের আশায়) মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশরাই নির্মান শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এরা সেখানে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তবে সম্প্রতি সেখানে এসব র্যামিট্যান্স যোদ্ধাদের মৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে।
গত একমাসের ব্যবধানে মনিরামপুরের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশদেরই স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন। মে মাসে স্ট্রোকে মৃত্যু হয় দিঘীরপাড় গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদেরের ছেলে মাসুম বিল্লাহ। পিতা আব্দুল কাদের জানান, মালয়েশিয়াতে মরদেহের ময়না তদন্তে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় তার ছেলে স্ট্রোকে মারা যান। শ্যামকুড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে শ্যামকুড় গ্রামের মেহেদী হাসান নামে এক শ্রমিক কুয়ালালামপুর শহরে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। গত দুই মাসের ব্যবধানে জুন মাসে সর্বাধীক মারা যান স্ট্রোকে।
মালয়েশিয়ায় স্ট্রোকে মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনা হয় গত ১ জুন মনিরামপুর উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, ২ জুন খড়িঞ্চী গ্রামের ওমর আলী ফকিরের ছেলে আবু সাঈদ, ৩ জুন মুক্তারপুর গ্রামের মহির উদ্দিন ফকিরের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন, ১২ জুন মাঝলাউড়ী গ্রামের মো: সাইফুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান শামীম এবং ১৩ জুলাই জালালপুর গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেনের মরদেহ। মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন,মালয়েশিয়ায় স্ট্রোকে আমার শ্যালক আব্দুল খালেকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। একই কথা বলেন অন্যান্য মৃতদের স্বজনরা।
তবে হঠাৎ করে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারন উল্লেখ করতে গিয়ে মালয়েশিয়ান মনিরামপুরস্থ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমান মালয়েশিয়ায় মনিরামপুরের প্রায় ৩৫ হাজার লোক অবস্থান করছেন। এর অধিকাংশ লোক গ্রামাঞ্চলের দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। ফলে তারা অনেকেই এখনও কাজ পায়নি এবং প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারনে তাদের পালিয়ে থাকতে হয়। পরিষদের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, এছাড়াও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে নির্মানকাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সব মিলিয়ে অত্যাধিক মানষিক যন্ত্রনায় থাকায় স্ট্রোকের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, শুনেছি অবৈধভাবে দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়ে বিভিন্নভাবে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ব্যাপারে সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ করা হলে তদন্তপূর্বক ওই সব দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ দিকে র্যামিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখাতে তাদের মরদেহ শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিনামুল্যে ’আমাদের এ্যাম্বুলেন্স’ যোগে মনিরামপুরে তাদের স্বজনদের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।
আমাদের এ্যাম্বুলেন্স সেবার সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো: শাহ্জালাল বলেন, যশোর-৫ মনিরামপুরের সংসদ সদস্য এস এম ইয়াকুব আলীর ছোটভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বিএসএমএমইউ) প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের ডা. মেহেদী হাসানের প্রতিষ্ঠিত আমাদের এ্যাম্বুলেন্সে করে বিনামূল্যে একমাসে পাঁচ র্যামিট্যান্স যোদ্ধাসহ মোট ছয়জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে। শুধু র্যামিট্যান্স যোদ্ধাই নয়, মনিরামপুরে যে কোন ব্যক্তির মৃতদেহ বিনামূল্যে বহন করা হবে। এছাড়া আমাদের এ্যাম্বুলেন্স ১ জুন থেকে নামমাত্র মূল্যে(তেল খরচ) মনিরামপুরবাসীর জন্য ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ জুলাই ২০২৪,/রাত ১০:১৫