রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আঁচ, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে কী?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

বাণিজ্য ডেস্ক : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চীন। তবে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে, যার প্রভাব বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে পড়েছে। গত মাসে বেইজিং তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বনিম্ন। সেই প্রেক্ষাপটে এটি চলতি বছরের প্রথম জিডিপি পরিসংখ্যান। 

এর আগের ত্রৈমাসিকে ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এবার অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে উৎপাদন খাত। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতি এখনো চাপে রয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যান বলেন, গাড়ি ও অন্যান্য রফতানি খাত এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা অর্থনীতিতে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনো সামনে আসেনি। বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে আগামী ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।
 
চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে মার্চ মাসে নতুন জিডিপি লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক কৌশল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে উদ্ভাবন, উচ্চ প্রযুক্তি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
 
এদিকে, দেশটির শাসক কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে। কারণ দুর্বল ভোগ, জনসংখ্যা হ্রাস এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতিও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাণিজ্য উত্তেজনা বেড়েছে, যা জ্বালানি সংকটকেও আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
 
বর্তমানে চীনের অনেক পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আগে যে শুল্কহার ছিল, তা জুলাইয়ের শুরুতে আবার কার্যকর করা হতে পারে। আগামী মে মাসে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই মার্চ মাসের রফতানি তথ্য বলছে, প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এসেছে। সংঘাতের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে এবং ভোক্তা ব্যয় কমেছে।
 
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সম্মিলিতভাবে রফতানি ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
 
ইলেকট্রনিক্স ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বছরের প্রথম দুই মাসের বাণিজ্য তথ্য একসঙ্গে হিসাব করা হয়। অন্যদিকে মার্চে আমদানি প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি হয়েছে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
 
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির প্রভাষক ইক্সিয়াও ঝোউ বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানির মূল্যও হঠাৎ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হুমকির কারণে অপরিশোধিত তেলসহ তেলজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর তুলনায় চীন উপসাগরীয় তেলের ওপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল।
তারপরও দেশটিতে পেট্রোলের দাম বাড়ছে। জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু চীনা বিমান সংস্থা ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। ঝোউ আরও বলেন, বৈশ্বিকভাবে খরচ কমে গেলে চীনের রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, রফতানি প্রবৃদ্ধি মূলত বাণিজ্য অংশীদারদের অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে, তাই দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন।
 
সূত্র-বিবিসি 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১:৩০

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit