ডেস্ক নিউজ : আশির দশকের শেষের কথা। স্পেনের আস্তুরিয়াস অঞ্চলের সমিয়েদো গ্রামের আশপাশে তখন হাতে গোনা কয়েকটি ক্যানটাব্রিয়ান বাদামি ভালুকের দেখা মিলত। সেসময় পুরো পর্বতমালায় এদের সংখ্যা কমে মাত্র ৬০-এ নেমে এসেছিল। তবে আশার কথা হলো, সংখ্যাটি এখন ৫০০ ছাড়িয়েছে! বিলুপ্তির দুয়ার থেকে ফিরে আসা এই বিপন্ন প্রাণীগুলোকে এখন খুব সহজেই দেখা যায় সমিয়েদো ন্যাচারাল পার্কে।
পার্কের গাইড লুইস ফ্রেচিলার দূরবিনে চোখ রাখলেই পাহাড়ের ঢালে ঘুরে বেড়ানো এই ভালুকগুলোর দেখা মেলে। এখানকার খাড়া ও রুক্ষ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এরা আমেরিকার গ্রিজলি ভালুকের চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট ও হালকা হয়।
১৯৭৩ সালে শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ‘ফাউন্ডেশন ওসো পার্দো’ নামের একটি সংস্থা এদের বংশবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা ভালুকদের পছন্দের খাবার সমৃদ্ধ গাছপালা লাগিয়ে বিশেষ ‘বায়ো-করিডোর’ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত এই ইকো-ট্যুরিজম তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
গোধূলির আলোয় পর্যটকরা যখন ‘এল দিয়েন্তে’ বা ‘দাঁত’ নামের এক খাড়া পাহাড়ে মা ভালুকের পিছু পিছু দুটি ছানাকে উঠতে দেখেন, তখন এক অন্যরকম মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে ছানাদের খুনসুটির দৃশ্য যেন এক জাদুকরী মুহূর্তের জন্ম দেয়। প্রকৃতি ও মানুষের এই চমৎকার সহাবস্থান প্রমাণ করে, একটু যত্ন আর সচেতনতা থাকলে বিপন্ন প্রাণীদেরও পরম মমতায় পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
কিউএনবি/অনিমা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৪:২১