বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

স্বর্ণ বিক্রির সময় দাম কেটে রাখা হয় কেন?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে বছর বছর স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অনেকেই স্বর্ণ কিনে জমিয়ে রাখেন ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভ করার আশায়।

এদিকে কেউ যদি স্বর্ণ বিনিময় করতে চান অর্থাৎ পুরানো স্বর্ণ দিয়ে নতুন স্বর্ণ কিনতে চান তাহলে ওই পুরানো স্বর্ণের ১০ শতাংশ ওজন বাদ দিয়ে যে দাম থাকে, ওই দামের নতুন স্বর্ণ নেওয়া যাবে।

চলতি বছরের ৮ মে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়। তার আগ পর্যন্ত পুরানো স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে নয় শতাংশ ওজন বাদ দেওয়া হতো।

বর্তমানে ১৫ শতাংশ বা ১০ শতাংশ কর্তনের বাইরে কেনার সময় দেওয়া মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ যে মূল্য পরিশোধ হয়েছে সেটাও বাদ যাবে।

বাজুসের সাবেক সভাপতি এবং বাংলা গোল্ড প্রাইভেট লিমিটেডের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক খান বলেছেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রে আপনি যেটা পরিশোধ করেছেন, আনুমানিক স্বর্ণের দামের পাঁচ শতাংশ কাটা যাবে। কারণ সেটা আমরা নেইনি। এটা সরকার নিয়েছে। আর মজুরির হার একেক গহনার ক্ষেত্রে একেক রকম। সাধারণত পাঁচ শতাংশ মজুরি হিসেবে কাটা যায়। নকশা ভেদে এটা ১০ শতাংশও হতে পারে।

বাজুসের সূত্র মতে, স্বর্ণের দামের ছয় শতাংশ মজুরি হিসেবে কাটা হয়ে থাকে। মূলত স্বর্ণের দোকানগুলোর পরিচালনা খরচ, সরকারের কর, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, লাইটিং, স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ, কারিগরের খরচ, স্বর্ণ নকশা করতে গেলে কিছু ক্ষয় হয় এমন বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাভ এই মজুরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সেইসঙ্গে মিনাকারী করা গহনা হলে বিক্রির সময় মিনার ওজনও বাদ যাবে। অনেক সময় স্বর্ণ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বক, ঘাম, বাইরের আবহাওয়া, পানি-বাতাস, এসিড এমন নানা কিছুর সংস্পর্শে ক্ষয়ে যায়। এবং আগে যত ওজন ছিল, তার চেয়ে ওজন কমে যায়।

তবে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য গয়না পরলে ওজনে তারতম্য হয় না। এই মূল্য কর্তনের হিসাব ২২ , ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে সনাতন স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে কিছু কিছু দোকান কোনও কর্তন ছাড়াই তিন দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ বা বদলে নেওয়ার সুযোগ রাখে।

কোন স্বর্ণ বিক্রিতে কত টাকা?

সাধারণত ২৪ ক্যারেট বলতে নিখাদ স্বর্ণ বোঝায়। বাংলাদেশে বর্তমানে যত স্বর্ণের গহনা বিক্রি হয় সেগুলোর বেশিরভাগই ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের।

বাজুসের মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স স্পেশালিস্ট রাশেদ রহমান জানান, ২২ ক্যারেটের এক ভরি গহনায় বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে ১৪ আনা চার রতি (৯১ দশমিক ছয় শতাংশ)। ২১ ক্যারেটে ১৪ আনা (৮৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ) এবং ১৮ ক্যারেটে পাওয়া যায় ১২ আনা (৭৫ শতাংশ) বিশুদ্ধ স্বর্ণ।

আরও সহজ করে বললে ২২ ক্যারেটে খাদ আছে নয় শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ১২ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেটে খাদের পরিমাণ ২৫ শতাংশ।

কিন্তু বিক্রির ক্ষেত্রে এই সব ধরনের স্বর্ণের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ওজন বাদ যাবে সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতিতে পড়বেন ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি করা ভোক্তারা।

স্বর্ণ বিক্রিতে লাভ আছে?

স্বর্ণ শুধু গহনা হিসেবে নয় বরং আর্থিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের সঞ্চয় এমনকি সম্পদ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়।

সংকট পরিস্থিতিতে সাধারণত সবচেয়ে প্রথম প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজার, বন্ড ও মুদ্রার মূল্যে। স্বর্ণের বেলায় এমন ধস নামে না।

সেইসাথে তেল ও গ্যাসের মতো স্বর্ণ ফুরিয়ে যায় না। নানা হাত ঘুরে তা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতেই থাকে, অর্থাৎ স্বর্ণের স্থায়িত্ব আছে।

স্বর্ণে বিনিয়োগের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, স্বর্ণের দাম বাড়লে বা কমলে তাতে আকাশ-পাতাল ফারাক হয় না। ফলে এটি ঝুঁকিমুক্ত।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক লাখ ১৭ হাজার ২৮১ টাকা।

একইভাবে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি এক লাখ ১১ হাজার ৯৫১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম দাঁড়াচ্ছে ৭৯ হাজার ৩৩৮ টাকা।

দুই যুগ আগে ২০০০ সালে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ছিল ছয় হাজার নয়শ টাকা। ২৪ বছর আগের সেই স্বর্ণ এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, সেখান থেকে ১৫ শতাংশ বাদ দিলেও ১৪ গুণেরও বেশি টাকা পাওয়া যাবে।

আবার সনাতন স্বর্ণ বিক্রি করেও যথেষ্ট লাভের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা।

যারা ২০ বছর আগে সনাতন স্বর্ণ কিনেছেন, তারা এখন সেগুলো বিক্রি করতে গেলেও কয়েক গুণ বেশি দাম পাবেন।

যেখান থেকে স্বর্ণ কিনেছেন, সেখানেই বিক্রি

বাজুসের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পুরনো স্বর্ণ কেউ যদি বিক্রি করতে চান, তাহলে তাকে ক্রয়ের রশিদ দিতে হবে।

এবং যে প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ কিনবেন তাদের নিশ্চিত হতে হবে রশিদে উল্লেখিত প্রকৃত মালিক সেটা বিক্রি করছেন কি না।

এ ব্যাপারে বাজুসের নেতাদের পরামর্শ, যে দোকান থেকে স্বর্ণ কিনেছেন সেই দোকানে বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে এবং স্বর্ণ কেনার রশিদ সাথে থাকলে কোনও ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে বিক্রি সম্পন্ন করা যাবে।

কেননা, যে দোকান থেকে কিনেছেন তারা নিজেদের স্বর্ণ কতটা খাঁটি, এবং স্বর্ণে কী পরিমাণ খাদ রয়েছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন।

এ কারণে স্বর্ণ কেনার পর এর রশিদ সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ জুলাই ২০২৪,/রাত ৯:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit