শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

সুরা মুলক তেলাওয়াতের ফজিলত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ৮৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : সুরাটিতে আছে তারকারাজি সৃষ্টির রহস্যের কথা, কেয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের অবস্থা এবং তাদের চিন্তা ও গবেষণা করার দাওয়াত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান। কবরের আজাব থেকে রক্ষা পেতে হলে বেশি বেশি সুরা মুলকের আমল করতে হবে। এ সুরা তার আমলকারীর জন্য কবরের আজাবের সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন (সুরা মুলকের আমলকারী) ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হবে, (আজাবের) ফেরেশতারা তার পায়ের দিক থেকে আসবে; তখন পা বলবে, এ দিক দিয়ে তোমরা তার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সে (আমার ওপর ভর করে) নামাজে দাঁড়িয়ে সুরা মুলক তিলাওয়াত করত। এরপর বুক অথবা পেটের দিক থেকে এলে তা বলবে, এদিক থেকেও তোমরা তাকে কিছু করতে পারবে না; সে তো সুরা মুলক তিলাওয়াত করত (আমার মাঝে সুরা মুলক ধারণ করত)। মাথার দিক থেকে এলে বলবে, আমার দিক থেকেও তোমাদের তার পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব নয়; সে তো সুরা মুলক তিলাওয়াত করত (আমার মাঝে সুরা মুলক সংরক্ষণ করত)।

হজরত ইবনে মাসউদ রা. বলেন, এ সুরা হলো বাধা দানকারী; ব্যক্তির কবরের আজাব রুখে দেয়। যে ব্যক্তি রাতে এটি তিলাওয়াত করল সে অনেক ভালো ও বড় কাজ করল। (মুসতাদরাকে হাকেম ৩৮৩৯)। নবীজি রাতে সুরা মুলক তেলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। নবীজি (সা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুরা মুলক তেলাওয়াত করতেন। এমনকি রাতে সুরা মুলক ও সুরা সাজদাহ তেলাওয়াত না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। হযরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি সুরা সাজদাহ ও সুরা মুলক তেলাওয়াত না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। (তিরমিজি ৩৪০৪, মুসনাদে আহমাদ ১৪৬৫৯)

রসুলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে কবরের আজাব থেকে পানাহ চাইতে বলেছেন। যায়েদ ইবনে সাবেত রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর।’ (মুসলিম ২৮৬৭)। রসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও কবরের আজাব থেকে পানাহ চাইতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একবার এক ইহুদি নারী তার কাছে এলো। সে কবরের আজাব প্রসঙ্গে আলোচনা করল এবং বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। নবীজি এলে আয়েশা (রা.) তাকে কবরের আজাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। নবীজি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, কবরের আজাব (সত্য)। আয়েশা (রা.) বলেন, এর পর থেকে আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, প্রতি নামাজের পরই তিনি কবরের আজাব থেকে পানাহ চাইতেন। (বুখারি ১৩৭২)।

সুরা মুলক-এর ছয়টি ভাগে এর সারমর্ম বোঝা যায়,

  • প্রথম ভাগ: ১ থেকে ৪ আয়াত। এ অংশে আছে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার বর্ণনা।
  • দ্বিতীয় ভাগ: ৫ থেকে ১৫ আয়াত। এ অংশে জাহান্নাম ও জান্নাতের প্রসঙ্গ।
  • তৃতীয় ভাগ: ১৬ থেকে ২২ আয়াত। এখানে আছে অত্যাসন্ন বিপদের বার্তা।
  • চতুর্থ ভাগ: ২৩ থেকে ২৪ আয়াত। সে বিপদে প্রস্তুতির সময় নিয়ে প্রশ্ন।
  • পঞ্চম ভাগ: ২৫ থেকে ২৭ আয়াত। সে বিপদ কবে ঘটবে, তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল?
  • শেষ ভাগ: ২৮ থেকে ৩০ আয়াত। এখানে আল্লাহর বিপরীতে মানুষের দুর্বলতার কথা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ জুন ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit