শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫০ রান ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কমলগঞ্জে বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে ৫টি কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার জলবায়ুর অভিঘাতে স্কুলে মেয়েদের ঝড়ে পড়া বাড়ছে: ইউনিসেফ বড়পুকুরিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে॥ রাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার দুর্গাপুরে ভারতীয় মদসহ আটক – ০১ দুর্গাপুরে যুবদলের উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

গিবত সম্পর্কে কোরআন কী বলে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ৮৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : গিবতের পরিচয়

গিবত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় গিবতের পরিচয় ফুটে উঠেছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান গিবত কী? সাহাবিরা বললেন, ‘(এ ব্যাপারে) আল্লাহ ও তার রসুলই ভালো জানেন। তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গিবত হচ্ছে- তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো- আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহলে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, তুমি তার দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তুমি তার গিবত করলে।

আর যদি সেই ত্রুটি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।(মুসলিম: ২৫৮৯; তিরমিজি: ১৯৩৪) কারও মধ্যে যদি সত্যিকারার্থেই কোনো দোষ-ত্রুটি থাকে, আর সেটা নিয়ে আলোচনা করা যদি তিনি অপছন্দ করেন, তাহলে সেই সত্যি কথাটা অপরকে বলে দেয়ার নামই হলো গিবত বা পরনিন্দা। আর যদি সেই দোষ তার ভেতরে না থাকে, তবে সেটা ‘বুহতান’ বা অপবাদ। অপবাদের শাস্তিও ভয়ংকর।

গিবত নিয়ে কোরআনে যা আছে

কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اجۡتَنِبُوۡا كَثِیۡرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعۡضَ الظَّنِّ اِثۡمٌ وَّ لَا تَجَسَّسُوۡا وَ لَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُكُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُكُمۡ اَنۡ یَّاۡكُلَ لَحۡمَ اَخِیۡهِ مَیۡتًا فَكَرِهۡتُمُوۡهُ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ رَّحِیۡمٌ অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)

মহান আল্লাহ আরেক আয়াতে বলেন,

وَیۡلٌ لِّكُلِّ هُمَزَۃٍ لُّمَزَۃِۣ ۙ﴿۱﴾ الَّذِیۡ جَمَعَ مَالًا وَّ عَدَّدَهٗ ۙ﴿۲﴾ یَحۡسَبُ اَنَّ مَالَهٗۤ اَخۡلَدَهٗ ۚ﴿۳﴾ كَلَّا لَیُنۡۢبَذَنَّ فِی الۡحُطَمَۃِ ۫﴿ۖ۴﴾ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا الۡحُطَمَۃُ ؕ﴿۵﴾ نَارُ اللّٰهِ الۡمُوۡقَدَۃُ ۙ﴿۶﴾ الَّتِیۡ تَطَّلِعُ عَلَی الۡاَفۡـِٕدَۃِ ؕ﴿۷﴾ اِنَّهَا عَلَیۡهِمۡ مُّؤۡصَدَۃٌ ۙ﴿۸﴾ فِیۡ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ ﴿۹﴾ অর্থ: দুর্ভোগ এদের প্রত্যেকের যে সামনে ও পেছনে লোকের নিন্দা করে, যে অর্থ জমায় ও বারবার তা গোনে, ভাবে যে এ অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। কখনো না। তাকে তো ফেলা হবে হুতামায়। হুতামা কী, তুমি কি তা জান? এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন, যা হৃৎপিণ্ডগুলোকে গ্রাস করবে, ওদেরকে বেঁধে রাখবে দীর্ঘায়িত স্তম্ভে। (সুরা হুমাজা, আয়াত: ১-৯)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমাকে তামার নখওয়ালা একদল লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা তাদের নখগুলো দিয়ে মুখমণ্ডলে আর বুকে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? জিবরাইল (আ.) বললেন, এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং তাদের মানসম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গিবত ও কুৎসা করত। (আবু দাউদ)।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের গিবতের বিনিময়ে এক গ্রাসও খাদ্য ভক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে অপমান করার মাধ্যমে কোনো কাপড় পরিধান করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুন পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কাউকেও হেয় প্রতিপন্ন করে লোকদের নিকট নিজের বড়ত্ব যাহির করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং ওই ব্যক্তির শ্রুতি ও রিয়া প্রকাশ করে দেয়ার জন্য দাঁড়াবেন। (আবুদাউদ: ৪৮৮১)

গিবত শোনার বিধান

গিবত করা যেমন মহাপাপ তেমনি খুশি মনে গিবত শোনাও পাপ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, গিবত শ্রবণকারীর কর্তব্য হলো গীবতকারীকে প্রতিহত করা এবং তাকে ধমক দেয়া। যদি কথার মাধ্যমে বিরত না রাখতে পারে, তবে হাত দিয়ে বাধা দেবে। যদি হাত বা মুখ দিয়ে বাধা দিতে না পারে, তাহলে সেই মজলিশ পরিত্যাগ করবে। আর বয়স্ক লোক, বাধা দেয়ার অধিকার আছে এমন ব্যক্তি, গণ্য-মান্য লোকের গিবত শোনার ব্যাপারে আলোচিত পরিস্থিতির চেয়ে আরো সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। আল-আযকার: পৃ. ২৯৪।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ জুন ২০২৪,/বিকাল ৫:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit