শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০ নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ালো ইসি বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ডিএমপি সুখরঞ্জন বালী অপহরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন এএসপি ফজলুর মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর শুভ উদ্বোধন। গুড়গুড়ি উত্তরপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ৬০টি আম গাছ কেটে ফেলেন ॥ আশুলিয়ায় মোটর চালক দলের মতবিনিময় সভা  দেবীগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজা শনিবার

গিবত সম্পর্কে কোরআন কী বলে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ৮৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : গিবতের পরিচয়

গিবত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় গিবতের পরিচয় ফুটে উঠেছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান গিবত কী? সাহাবিরা বললেন, ‘(এ ব্যাপারে) আল্লাহ ও তার রসুলই ভালো জানেন। তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গিবত হচ্ছে- তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো- আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহলে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, তুমি তার দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তুমি তার গিবত করলে।

আর যদি সেই ত্রুটি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।(মুসলিম: ২৫৮৯; তিরমিজি: ১৯৩৪) কারও মধ্যে যদি সত্যিকারার্থেই কোনো দোষ-ত্রুটি থাকে, আর সেটা নিয়ে আলোচনা করা যদি তিনি অপছন্দ করেন, তাহলে সেই সত্যি কথাটা অপরকে বলে দেয়ার নামই হলো গিবত বা পরনিন্দা। আর যদি সেই দোষ তার ভেতরে না থাকে, তবে সেটা ‘বুহতান’ বা অপবাদ। অপবাদের শাস্তিও ভয়ংকর।

গিবত নিয়ে কোরআনে যা আছে

কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اجۡتَنِبُوۡا كَثِیۡرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعۡضَ الظَّنِّ اِثۡمٌ وَّ لَا تَجَسَّسُوۡا وَ لَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُكُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُكُمۡ اَنۡ یَّاۡكُلَ لَحۡمَ اَخِیۡهِ مَیۡتًا فَكَرِهۡتُمُوۡهُ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ رَّحِیۡمٌ অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)

মহান আল্লাহ আরেক আয়াতে বলেন,

وَیۡلٌ لِّكُلِّ هُمَزَۃٍ لُّمَزَۃِۣ ۙ﴿۱﴾ الَّذِیۡ جَمَعَ مَالًا وَّ عَدَّدَهٗ ۙ﴿۲﴾ یَحۡسَبُ اَنَّ مَالَهٗۤ اَخۡلَدَهٗ ۚ﴿۳﴾ كَلَّا لَیُنۡۢبَذَنَّ فِی الۡحُطَمَۃِ ۫﴿ۖ۴﴾ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا الۡحُطَمَۃُ ؕ﴿۵﴾ نَارُ اللّٰهِ الۡمُوۡقَدَۃُ ۙ﴿۶﴾ الَّتِیۡ تَطَّلِعُ عَلَی الۡاَفۡـِٕدَۃِ ؕ﴿۷﴾ اِنَّهَا عَلَیۡهِمۡ مُّؤۡصَدَۃٌ ۙ﴿۸﴾ فِیۡ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ ﴿۹﴾ অর্থ: দুর্ভোগ এদের প্রত্যেকের যে সামনে ও পেছনে লোকের নিন্দা করে, যে অর্থ জমায় ও বারবার তা গোনে, ভাবে যে এ অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। কখনো না। তাকে তো ফেলা হবে হুতামায়। হুতামা কী, তুমি কি তা জান? এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন, যা হৃৎপিণ্ডগুলোকে গ্রাস করবে, ওদেরকে বেঁধে রাখবে দীর্ঘায়িত স্তম্ভে। (সুরা হুমাজা, আয়াত: ১-৯)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমাকে তামার নখওয়ালা একদল লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা তাদের নখগুলো দিয়ে মুখমণ্ডলে আর বুকে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? জিবরাইল (আ.) বললেন, এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং তাদের মানসম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গিবত ও কুৎসা করত। (আবু দাউদ)।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের গিবতের বিনিময়ে এক গ্রাসও খাদ্য ভক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে অপমান করার মাধ্যমে কোনো কাপড় পরিধান করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুন পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কাউকেও হেয় প্রতিপন্ন করে লোকদের নিকট নিজের বড়ত্ব যাহির করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং ওই ব্যক্তির শ্রুতি ও রিয়া প্রকাশ করে দেয়ার জন্য দাঁড়াবেন। (আবুদাউদ: ৪৮৮১)

গিবত শোনার বিধান

গিবত করা যেমন মহাপাপ তেমনি খুশি মনে গিবত শোনাও পাপ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, গিবত শ্রবণকারীর কর্তব্য হলো গীবতকারীকে প্রতিহত করা এবং তাকে ধমক দেয়া। যদি কথার মাধ্যমে বিরত না রাখতে পারে, তবে হাত দিয়ে বাধা দেবে। যদি হাত বা মুখ দিয়ে বাধা দিতে না পারে, তাহলে সেই মজলিশ পরিত্যাগ করবে। আর বয়স্ক লোক, বাধা দেয়ার অধিকার আছে এমন ব্যক্তি, গণ্য-মান্য লোকের গিবত শোনার ব্যাপারে আলোচিত পরিস্থিতির চেয়ে আরো সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। আল-আযকার: পৃ. ২৯৪।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ জুন ২০২৪,/বিকাল ৫:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit