খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুস্পেন দেবনাথ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান সরকার কে আদালতে তলব করা হয়েছে। সহকারী জজ আদালতের (গোসাইরহাট) বিচারক হুমায়ুন কবির ৩ জুন এই আদেশ দিয়েছেন।আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গোসাইরহাট থানার এস আই মিজানুর রহমান সরকার গোসাইরহাট আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানী ১০১/২০২৪ নং মোকদ্দমার সূত্র ব্যবহার করে বিবাদী পক্ষকে গত ১৯ মে তারিখে নোটিশ প্রদান করেছেন।
আদালতের নির্দেশক্রমে বিবাদীদের নোটিশ দিয়ে নালিশী জমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মর্মে নোটিশে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে গত ২০ মে সেই এসআই মিজানুর রহমান সরকার তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ হাতে বিরোধীয় জমির স্থাপনা অপসারণ করেছেন। বিষয়টি বিবাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মহিউদ্দিন মোল্লা শাহিন দরখাস্তের মাধ্যমে আদালতকে অবগত করেন। আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক মামলার নথি পর্যালচনা করেন। নথি পর্যালচনায় আদালত থেকে এহেন কোন আদেশ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিয়মান হয়নি।
পরবর্তীতে আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, ওসি ও এসআই তাদের প্রতিবেদন প্রদান সংক্রান্ত ব্যাখ্যা লিখিত আকারে আদালতে আগামী ১২ জুনের মধ্যে প্রেরণ করবে। মোকদ্দমার পক্ষগণকে এখতিয়ারবিহীন ভাবে নোটিশ প্রদানের কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টিকট সুপারিশ করা হবে না এই মর্মে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আগামী ১২ জুন আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলার দুই নং বিবাদী দ্বীন মোহাম্মদ সরদার জানায়, এসআই মিজানুর রহমান সরকার নোটিশ দিয়েই খ্যান্ত হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ হাতে স্থাপনা ভাংচুর করেছেন। তার মেয়ে ভাংচুরের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করায় পুলিশ তাকেও খুব অপমান করেছে। বিষয়টি তিনি তার আইনজীবীকে জানালে আইনজীবী আদালতের দৃষ্ঠিগোচর করেন।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন মোল্লা শাহিন বলেন. আমার মক্কেল পুলিশের কর্মকান্ডের বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ওসিকে ফোন করি। ওসি সাহেক আমাকে বলেন ‘সে যা করেছে তাই আইনী পদক্ষেপ, আমি নাকি আইন জানি না’। এখন আদালত যে আদেশ দিয়েছেন সেই সম্পর্কে ওসি সাহেব আইনী কি ব্যাখ্যাা দিবে তা আগামী ১২ জুন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মইনুল ইসলাম ওদুদ বলেন, এটা ভাই-বোনদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের মামলা। আমি বাদী পক্ষে নিযুক্ত হয়েছি। বাদী হয়তো আদালতের উপর আস্তা রাখতে পারেনি। তাই পুলিশের মাধ্যমে আদালতের ও মামলার বরাত দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে নোটিশ করিয়ে বিবাদীদের হেনস্থা করার জন্য এই কাজ করেছে। পুলিশ কাজটা ঠিক করেনি। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে পুলিশের এই কাজের প্রতিবাদ জানাই।
আদালত ও মামলার সূত্র ব্যবহার করে নোটিশ প্রদানকারী এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আদালত থেকে নোটিশ প্রাপ্ত হয়েছি। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সমাধান হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।গোসাইরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ, পুস্পেন দেবনাথ বলেন, আদালত স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। আমরা আদালতে ব্যাখ্যা দিব।
কিউএনবি/অনিমা/০৪ জুন ২০২৪,/বিকাল ৩:৪৩