বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে আগ্রহী : বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু ‘মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেব’, আন্দোলনকারীদের হুমকির অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত তিন হাজার বছরের পুরোনো গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডেয়া উত্তেজনা বাড়িয়ে তাইওয়ান প্রণালিতে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চীনের কারাগারে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না : মোদি হামাস সদস্যদের রাখা কারাগারের অংশ ঘিরে কুমির রাখার জন্য পরিখা খনন শুরু করেছে ইসরায়েল প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচার আদালত গড়ে তোলার ঘোষণা মোদির পিকঅ্যাক্স পাহাড় ঘিরে ট্রাম্পের এতো আগ্রহ কেন?

একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা, ইসলাম কী বলে?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
  • ১৩১ Time View

ডেস্ক নিউজ : পবিত্র ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম আমল হচ্ছে পশু কোরবানি করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার ইবাদতের জন্য এই পশু জবাই করার নামই কোরবানি, যা প্রতিটি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। তবে কেউ কেউ কোরবানির পশুতে নিজেদের সন্তানের আকিকার অংশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এভাবে কোরবানির পশুতে আকিকার অংশ দেয়া সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? 

সন্তান জন্ম নেয়ার সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম। তবে সপ্তম দিনে আকিকা করতে না পারলে পরে যেকোনো সময় তা আদায় করা যাবে। শিশুর জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা না হয়ে থাকলে কোরবানির ঈদের দিন কোরবানির পশুর সঙ্গে শিশুর আকিকা করা যাবে। কোরবানি যেমন ইবাদত হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, আকিকাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা যায়, তাই কোরবানির পশুতে আকিকার শরিক রাখতে কোনো বাধা নেই। উট ও গরুর মতো যেসব বড় পশু সাতটি নামে কোরবানি করা যায়, ওইসব পশুতে চারটি নামে কোরবানি হলে আরও দুটি বা তিনটি নামে আকিকাও হতে পারে। একইভাবে কোরবানির শরিকানার মতো একই পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে আকিকা আদায় করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬) 
কোরবানির পশুতে আকিকা দেয়া যায়? প্রথমে জেনে রাখা উচিত যে, কোরবানির কোন পশুতে কতজন অংশ নিতে পারে। তাহলে কাউকে শরিক করতে চাইলে বিষয়টি সহজ হবে। প্রথমত, উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন: দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭) 

 
শরিকে কোরবানির ক্ষেত্রে পশুতে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ অন্যের অংশ থেকে কম-বেশি হতে পারবে না। যেমন কারও আধা ভাগ, কারও দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ি: ৪/২০৭) 
 
কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া যাবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই হবে। ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিতে হবে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১২৬) 
 
ফাতাওয়া শামিসহ ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবাদিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোরবানির সঙ্গে আকিকা শুদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; হাশিয়াতুত তহতাভি আলাদ্দুর: ৪/১১৬)
 

আকিকা দেয়ার নিয়ম
 

আকিকা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ কাটা, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা, জানের সদকা দেয়া ও আল্লাহর নিয়ামতের মোকাবিলায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ইসলামি পরিভাষায় আকিকা হচ্ছে, নবজাতকের পক্ষ থেকে পশু জবেহ করা। আলেমদের অনেকেই আকিকা করাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতি হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি করে বকরি জবেহ করেছেন। (আবু দাউদ)

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, দুটি বকরি জবেহ করেছেন। খায়সামি (রহ.) বলেন, হযরত আনাসের বর্ণনা শুদ্ধতার বিচারে বুখারি-মুসলিমের বর্ণনার সমমর্যাদা রাখে। ইমাম মালেক (রহ.) তার মুআত্তায় বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার সন্তান হয় সে যদি সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করতে চায়, তবে তা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, নাম রাখ ও চুল কর্তন কর। (তিরমিজি)

আকিকায় কতটি পশু কোরবানি করবেন?
ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, ছেলের পক্ষ থেকে প্রতিদান হিসেবে দুটি বকরি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। জন্মের সপ্তম দিন, সম্ভব না হলে ১৪তম দিন বা ২১তম দিন আকিকা করা সুন্নত।
 
হযরত বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন, সপ্তম দিন অথবা চতুর্দশ দিন অথবা একুশতম দিন আকিকা কর। (তিরমিজি)

আকিকার গোশতের বিধান

আকিকার গোশত শিশুর মা-বাবাসহ সবাই খেতে পারবে। কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে আকিকার পশুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। অর্থাৎ পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবে না। এর চামড়া বা মাংস বিক্রি করা যাবে না বরং এর মাংস খাবে, সদকা করবে ও যাকে ইচ্ছে উপহার হিসেবে দিবে। 


হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে যে, তিনি বলেন, আকিকার গোশত নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে এবং কিছু সদকা করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৬৬৯)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ মে ২০২৪,/বিকাল ৪:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit