বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২২ ‍জুলাই, ২০২৬ হুথিদের হুমকিতে পথ ঘোরালো চীন ও ভারতগামী সৌদির দুই তেলবাহী ট্যাংকার শুল্কের অস্ত্রে কানাডাকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের নতুন চাল ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৩ আগস্ট জামায়াতের এমপির ভিডিও ভাইরাল, ষড়যন্ত্রের দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবার্সির তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি, লালমনিরহাটে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা, ব্যারাজের সব গেট উন্মুক্ত ডোমারে মাদার ডেন্টাল কেয়ার এর শুভ উদ্বোধন

‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ নাকি ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’ কোনটি সঠিক?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
  • ১২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইস্তিগফার আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। মহান আল্লাহর দরবারে নতিস্বীকার করা। ভুল-ত্রুটি ও অন্যায়-অপরাধগুলো ক্ষমা করতে কাকুতি-মিনতি করা।

‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ আরবি শব্দ أَسْتَغْفِرُالله , কেউ উচ্চারণ করেন ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’ আবার কেউ বলেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। أَسْتَغْفِرُ الله তথা ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। তখন এর অর্থ হবে- ‘হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই’ (অতএব আমাকে ক্ষমা করুন)।
 
ভুল উচ্চারণ ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’ও আরবি শব্দ। أَسْتَكْفِرُ الله তথা ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’। এর অর্থ মারাত্মক ভুল। তাহলো- ‘হে আল্লাহ! আমি কাফের তথা অস্বীকারকারী হতে চাই।’ (অতএব আমাকে কাফের বা অস্বীকারকারী বানিয়ে দিন)। (নাউজুবিল্লাহ)
 
আরবি উচ্চারণে غين ‘গাইন’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। বাংলায় ’গ’ যোগে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ উচ্চারণ করতে হবে। তবেই এর উচ্চারণ ও অর্থ সঠিক ও শুদ্ধ হবে। আর আরবি ও বাংলায় যথাক্রমে ‘কাফ ও ক’ যোগে উচ্চারণটি সঠিক নয়। অর্থে মারাত্মক পরিবর্তন হয়ে যায়।
ইস্তিগফারের শব্দাবলিআপনি যে কোনো ইস্তিগফার পাঠ করতে পারেন। তবে উচ্চারণ সঠিক হতে হবে-

 
أَستَغْفِرُ اللهَ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
 
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার দিকেই ফিরে আসছি।
 
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি। অর্থ: ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’
 

পবিত্র কোরআনে ইস্তিগফার

পবিত্র কোরআনে এসেছে ইস্তেগফার পাঠে বান্দার অভাব মোচন হয়। পাপাচার ক্ষমা করা হয়। সন্তান-সন্ততির অভাব যেমন থাকে না তেমিন রিজিকেও আসে পরিপূর্ণ বরকত। অভাবমুক্ত থাকতে পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি ইসতেগফার পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে মহান আল্লাহ মানুষকে উত্তম রিজিকসহ অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

 
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً
 
‘অতঃপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
ইস্তিগফার পাঠে রিজিক বৃদ্ধি পায়হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি কেউ বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাআলা তাকে সকল প্রকার দুর্দশা থেকে মুক্তি দান করেন, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণ দান করেন। তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ)

ইস্তিগফার পাঠে সচ্ছলতা আসেঅন্য হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার পাপাচারের জন্য ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিয়মিত আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেবেন। তাকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা দান করবেন। সে আল্লাহর রহমতে এমন উৎস থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হবে, যা সে চিন্তাও করেনি।

নবীজির ইস্তিগফার পাঠরসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের কোনো গুনাহ ছিল না। তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। এরপরও তিনি দিনে-রাতে প্রচুর পরিমাণ ইস্তেগফার পাঠ করতেন। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রত্যেকদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করে থাকি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৭)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ মে ২০২৪,/রাত ৮:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit