বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেশে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম ডনের সেই অন্তরঙ্গ ছবির বিষয়ে যা জানালেন সামিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে ভারতীয় সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের অর্বাচীনতা রাত ১টার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস নওগাঁর পত্নীতলায় দৈনিক করতোয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিরামপুরে খানপুর ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত অপপ্রচারের অভিযোগে দিনাজপুরে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলন॥ এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও দরজা বন্ধ হয়ে আসছে সাকিবের ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় অমিত শাহ, রাহুলের সাফ কথা— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লেকচার শুনতে আগ্রহী নই খুলনা বরিশাল চট্টগ্রামসহ ৭ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস

ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের মালয়েশিয়ায় মৃত্যু

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৮৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী খোন্দকার তানভীর ইসলাম জয় পলাতক অবস্থায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মারা গেছেন। 

গত ১২ এপ্রিল কুয়ালালামপুরে একটি তালাবদ্ধ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পুডু থানা–পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর সোমবার দুপুরে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জয় এত দিন তারেক রানা নামে ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। 

জয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনার শামীম আহসান কোনো কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে ঢাকায় পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, তানভীর ইসলাম জয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি সঠিক। তবে তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে অবস্থান করায় দূতাবাসের কিছু করার ছিল না। একই কারণে তারা কোনো খোঁজখবর নেয়নি। 

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরে অবস্থিত ইন্টারপোলের শাখা কার্যালয় ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে ইন্টারপোল ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইন্টারপোলের কুয়ালালামপুর এনসিবির কাছে ই–মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত তারা কিছুই জানাতে পারেনি। 

কুয়ালালামপুরের স্থানীয় সূত্র বলেছে, সন্ত্রাসী জয় অনেক দিন ধরে কুয়ালালামপুরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে একা বসবাস করছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হতো। ওই অ্যাপার্টমেন্টে একজন গৃহকর্মী দুদিন পরপর এসে রান্না ও ঘর পরিষ্কার করে চলে যেত। গত ১২ এপ্রিল সকালে ওই গৃহকর্মী অ্যাপার্টমেন্টে এসে কলবেল বাজানোর পরও কোনো সাড়া না পেলে বিষয়টি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। তারাও ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে জয়ের লাশ উদ্ধার করে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া বা ইউকেএম হাসপাতালে পাঠায়। সেই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ফারিদা মুহা নূর লাশের ময়নাতদন্ত করেন। 

রোববার ইউকেএম হাসপাতালের অধ্যাপক ফারিদা মুহা নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার সহকর্মীর ফোন নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সোমবার সকালে সেই সহকর্মীকে ফোন দেওয়া হলে সেখানেই ভাইয়ের লাশের অপেক্ষায় বসে ছিলেন জয়ের এক বোন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি লাশ নিতেই মালয়েশিয়ায় এসেছেন। অধ্যাপকের সহকর্মী তাকে কথা বলতে অনুরোধ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। 

তবে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, জয়ের বোন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কুয়ালালামপুরে এসে সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসে ভাইয়ের লাশের জন্য লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে দূতাবাস তাকে লাশ গ্রহণের এনওসি দেয়। সেটা হাসপাতালে জমা দিয়ে সোমবার তিনি লাশ গ্রহণ করেন। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাফন করেন। 

নব্বই দশকের ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ লিয়াকত–হান্নানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত হন তানভীর ইসলাম জয়। কলাবাগানের ধনাঢ্য একটি পরিবারের এই সন্তান সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। সে সময় তাদের গ্রুপটি পুলিশের কাছে সেভেনস্টার নামে পরিচিতি পায়। জয়ের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাকাণ্ড, দুটি হত্যাচেষ্টা, ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম এবং চাঁদার জন্য শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অনেকগুলো অভিযোগ ছিল। 

 ২০০০ সালে জয়কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে চলে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় তারেক রানা নামে পাসপোর্ট করে ২০০১ সালে মালয়েশিয়া চলে যান। আবার ভারতে ফিরে আসেন। ভারতে থাকার সময় তার নামসহ ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর পোস্টার প্রকাশ করে পুলিশ। 

 ২০০৫ সালে বাংলাদেশের অনুরোধে ইন্টারপোল ‘রেড কর্নার নোটিশ’ জারি করে জয়ের বিরুদ্ধে। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফতাব আহমেদ খুনের ঘটনায় তার নাম আসে। ২০০৭ সালে রাজধানীর গড গিফট ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিতে গোলাগুলির ঘটনায়ও জয়ের জড়িত থাকার কথা ওঠে। 

 ২০০৭ সালে ভারতে অবস্থানের সময় সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে। সেখানে কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে চলে যান কানাডায়। এরপর টরন্টোতে ‘এসজে ৭১’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। সেখানে রানা অ্যাজাক্স নামে নিজের পরিচয় দিতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে কানাডা পুলিশ তার ব্যাপারে তথ্য পেয়ে তদন্ত শুরু করে। 

 ২০১৯ সালে কানাডার নির্বাচনের আগে তিনি সে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। জয় দুই বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী তার আপন মামি। সেই ঘরে একটি সন্তান আছে। তার বিদেশি দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেও একটি সন্তান রয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/১৬ এপ্রিল ২০২৪/দুপুর ২:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit