মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ চৌগাছায় ক্ষুরা রোগে অর্ধশত গরুর মৃত্যু, খামারি ও চাষী দিশেহারা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৪৬ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় ক্ষুরা রোগে গত কয়েক দিনে অন্তত অর্ধশত গরুর মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে কৃষক ও বিভিন্ন খামারের প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক গরু। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। এদিকে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।প্রাণী চিকিৎসকদের (পল্লীপশু চিকিৎসক) পরামর্শে ভ্যাকসিন, টিকা ও ওষুধ ব্যবহার করেও খুরা রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ লাকার গরু-ছাগল পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর জানায়, ভ্যাকসিন-ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা চলছে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত গরুর ভ্যাকসিন, টিকা ও ওষুধ পুশ করা হয়েছে। তাদের ধারণা এটি ক্ষুরা রোগের নতুন ধরন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় খামার রয়েছে ২৩০৪টি। খামার মালিক ও কৃষকদের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার গরু রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ আগে উপজেলায় গরুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অতিসম্প্রতি এ রোগে পুড়াপাড়া এলাকার আবুলেস হোসেনের ১টি, লাল চাদের ১টি ও বাবলুর রহমানের ১টি, পাতিবিলার রিতা ডেইরি ফার্মে ২টি, আরাধনের ১টি, সঞ্চজয় ঘোসের ২টি, নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামের তরিকুল ইসলামের ১টি ও একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ১টি, চাঁদপাড়া গ্রামের আবু ছার হোসেনের ১টি ও বুলু রহমানের ১টিসহ এই উপজেলায় অর্ধশত গরু ক্ষুরা রোগে মারা গেছে। মারা যাওয়া প্রত্যেকটি গরুর বাজার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। সেই হিসেবে গেল কয়েক দিনে প্রায় কোটি টাকার গরু মারা গেছে। এদিকে চাঁদপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ২টি, আবু সালামের ১টিসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক ছাগল মারা গেছে।এ বিষয়ে একাধিক কৃষক ও ডেইরি ফার্ম মালিকদের অভিযোগ, চৌগাছা প্রাণী সম্পাদ অফিসের কাউকে গ্রামে আসতে দেখা যায় না। এমনকি গরু-ছাগলের ফার্ম মালিকরা তাদের চেনেও না। কোন ব্যাক্তি গরু-ছাগলের চিকিৎসা নিতে উপজেলা প্রাণী সম্পাদ অফিসে গেলে তাদের সাথে ব্যাপক খারাপ আচারণ করাও অভিযোগ রয়েছে। সরকার প্রাণী সম্পাদ উন্নয়নে নানা মুখি কর্মসুচি গ্রহণ করলেও উপজেলা প্রাণী সম্পাদ অফিসের কর্মকর্তাদের গড়িমসির ফলে তা মাঠে মারা যাচ্ছে। সরকারের কোটি কাটা ব্যায় হলেও কোন সুবিধা পাচ্ছে না কৃষক ও গরু-ছাগল ফার্ম মালিকরা।

সিংহঝুলী গ্রামের ফার্ম মালিক টাইফুর রহমান টাইম হোসেন বলেন, আমার খামারের খুরা রোগ আক্রান্ত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। গরুকে ভ্যাকসিনসহ ওষুধ দিয়েছি, তবে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। ফার্মের সব গরু বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছি। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিসের কোন লোক আমার ফার্মে আসেন না। বারবার যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। প্রাণী স¤পদ বিভাগের লোকজন এসে আক্রান্ত গরুগুলোর চিকিৎসা দিলে হয়ত এ যাত্রা রক্ষা পেতাম।

উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল কবির বলেন, রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, উঠান বৈঠক ও মেডিকেল ক্যা¤প করে রোগ প্রতিকার স¤পর্কে অবগত করা হচ্ছে। সাধারণত এফএমডি বা ক্ষুরা রোগের ধরন রয়েছে দুটি। ধারণা করা হচ্ছে, এ উপজেলায় আক্রান্ত রোগটি ক্ষুরা রোগের নতুন ধরন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে খুরা রোগটি কিছুটা কমে আসবে। তিনি বলেন লোকবল কম থাকাই মানুষের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/২৪ মার্চ ২০২৪/বিকাল ৩:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit