বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে বাকি জীবন কাটাতে চান কবীর সুমন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১০১ Time View

বিনোদন ডেস্ক : উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের জন্ম ভারতের ওড়িশায়। বেড়ে ওঠা কলকাতাতে হলেও বাংলাদেশের প্রতিও বেশ টান রয়েছে তার। তাই জীবনের শেষ দিনগুলো বাংলাদেশে কাটাতে চান কবীর সুমন। 

সোমবার দুপুরের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে এ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।  

বয়সের কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। কিছুদিন আগে টানা প্রায় সপ্তাহ খানেক হাসপাতালে থেকে এসে এমন উপলব্ধিই হয়েছে তার, এমনটাই উল্লেখ করেছেন ফেসবুক পোস্টে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এই কথা আমি আগেও অনেকবার বলেছি। তাও ফের বলছি, কারণ আমার কথায় কোনও কাজ হচ্ছে না। এমন নয় যে সনাতনধর্মীয় নামধারী কোনও বঙ্গজ আমায় সম্মান করেন না। মুষ্টিমেয় কিছু বঙ্গজ করেন। কিন্তু বড্ড বেশি সংখ্যক সনাতনধর্মীয় বঙ্গজ আমায় ঢাক পিটিয়ে ঘৃণা করেন এবং তা জাহির করে সনাতনী সুখ পান।

নিজের নামের ব্যাখ্যা করে এ শিল্পী লেখেন, আর এক শ্রেণীর সনাতন-বঙ্গজ আছে যারা আমায় কবীর নামে ডাকতে চায় না। এরা, যা দেখেছি ‘বামপন্থী’। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আমার নাম ভারতের সংবিধান মোতাবেক, ঘোষিতভাবে কবীর সুমন। ফার্স্ট নেম কবীর। সার্নেম সুমন।

আমার আয়কর ফাইল র‌্যাশন কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, আধার কার্ড সর্বত্র এই নামটাই আছে। এই নামে আমি ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে মাননীয় সি পি আই এম সদস্য ডক্টর সুজন চক্রবর্তীকে হারিয়ে দিয়ে লোকসভার সাংসদ হয়েছিলাম। ভারতের অন্তর্ভুক্ত পশ্চিম বাংলায় তা সকলের জানার কথা। তা সত্ত্বেও সি পি আই এম করা বঙ্গজরা আমায় আমার বর্জিত নামে ডাকেন। শুধরে দিলেও শুধরে নেন না। আর নকশালপন্থী দলের বঙ্গজ নেতাও (নামে সনাতনধর্মীয়) আমায় ভুলেও কবীর সুমন বলেন না, কবীর তো নয়ই। তিনি অবিরাম সুমন সুমন করে যান। এদিকে সকলেই নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, ব্যক্তিগত অধিকার বলতে গদগদ। আর একদল আছে, যারা আমায় গানওলা বলে ডাকে। কী বলি।  

বাংলাদেশিরা তাকে সম্মান করেন এটা উল্লেখ করে বলেন, যা বুঝেছি, আমায় নির্দ্বিধায় সম্মান করেন যাঁরা, প্রাপ্য সম্মানটুকু দেন যাঁরা তাঁরা সদলবলে বাঙলাদেশের নাগরিক। পশ্চিমবঙ্গের সনাতনধর্মীয় বঙ্গজদের মতো বাংলাদেশের কেউ আমায় সমানে, যে কোনও উপায়ে অপমান করে যান না। আর মাসখানেক পরে আমি ৭৫ পুরো করে ৭৬ এ পড়ব।

তবে কলকাতা তার প্রথম জানিয়ে বলেন, কলকাতা আমার প্রথম প্রেম। কলকাতা নামটা আমার গানে যতবার এসেছে আর কারুর কবিতায় গানে তা আসেনি। আমায় যাঁরা বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁরা সকলেই কলকাতার সনাতনধর্মীয় বঙ্গজ। তাঁদের ছেড়ে থাকতে পারব না। কিন্তু, কারুর কোনও ক্ষতি না করা সত্ত্বেও সমানে অপমানিত হতে হতে এবারে আমি চাইছি এই দেশটা, মায় এই শহরটাও ছেড়ে চলে যেতে। এখানকার সনাতনধর্মীয় বঙ্গজদের মধ্যে অন্তত দুজন ফেসবুকে ঘোষণাও করেছেন ‘হাসপাতাল থেকে ফিরে না এলেই ভাল হত। ’ তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু লেখেনি।

তার মৃত্যুর পর কি হবে সেটা জানিয়ে বলেন, মরে যাবার পর কোনও ধর্মীয় শেষকৃত্যের প্রশ্নই উঠবে না। আমার দেহ দান করা আছে। বাংলাদেশে মরলে সেখানকার কোনও হাসপাতালে আমার শরীর কাজে লাগানো যেতে পারে। আজও আমি ফেসবুকে আমার সম্পর্কে সনাতনধর্মীয় বঙ্গজদের খিস্তি পড়েছি। এতে আমার মধ্যে কোনও উত্তেজনা জাগেনি। জাগছে এই ‘বিদেশটা’ ত্যাগ করে ভাষা মতিনের দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, সেই দেশের কাজে লাগার ইচ্ছে।

তিনি বাংলাদেশের সরকারের কাছে সাহায্য চাইলেও পোস্টের শেষে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রতি। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে সাহায্য ও আশ্রয় চাইছি। এই রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলা খেয়ালকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, রাজ্য ক্লাসিকাল মিউজিক কনফারেন্সে আমায় বাংলা খেয়াল গাইতে দিয়েছেন। এ রাজ্যের একজন শিল্পীও কিন্তু সংহতি জানাননি আমার সঙ্গে। যতদিন বেঁচে থাকব শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জি প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, তাঁর পক্ষে থাকব। কেউ যদি পারেন আমায় সাহায্য করুন।

উল্লেখ্য, সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ১৯৪৯। তিনি একাধারে গায়ক গীতিকার। পাশাপাশি কিছুদিন সাংবাদিকতা ও অভিনয়ও করেছেন। ছিলেন সংসদ সদস্যও। ২০০০ সালে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি তার পুরনো নাম পরিত্যাগ করেন। ১৯৯২ সালে তার ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। তার রচিত গানের অ্যালবামের সংখ্যা পনেরো। দুই বাংলার তরুণদের কাছে দারুণ জন্মপ্রিয় এই শিল্পী।

কিউএনবি/অনিমা/১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/রাত ১০:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit