মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ‘সালাম’

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৯৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক বন্ধন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই সামাজিক রীতি-নীতি কেমন হবে; আর একে অপরকে কিভাবে অভিবাদন জানাবে ইসলাম তা শিখিয়ে দিয়েছে। ‘আসসালামু আলাইকুম’ যার অর্থ হচ্ছে ‘আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক’।

ইসলামের চমৎকার এই অভিবাদন পদ্ধতিটি পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য দূর করে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। শত্রুতা বিদূরিত করে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে।
সালাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা। আর শরিয়তের পরিভাষায় একজন মুসলিম অপর মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যে বাক্য দ্বারা একে অপরের ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, শান্তি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও দোয়া কামনা করে তার নামই সালাম।


সালামের এই নান্দনিক বিধানটি মহান আল্লাহ নিজে প্রবর্তন করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে তার আকৃতিতেই সৃষ্টি করেছেন। তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করে বললেন, যাও অবস্থানরত ফেরেশতাদের ওই দলকে সালাম করো।

আর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো তোমার দেওয়া সালামের জবাবে তারা কী বলে। কেননা এটিই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের অভিবাদনের পদ্ধতি। অতঃপর আদম (আ.) সেখানে গিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললেন। জবাবে ফেরেশতারা বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাঁরা  ‘ওয়া রাহমাতুল্লা’ অংশটি বৃদ্ধি করে বলেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩২৬)

মহান আল্লাহ সালামের জবাব উত্তমভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,  ‘তোমরা যখন বিশেষ শব্দে সালামপ্রাপ্ত হবে তখন তোমাদের প্রতি প্রদত্ত সালামের চাইতে উন্নত ভাষায় সালাম দেবে। অথবা ওই ভাষায়ই উত্তর দেবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয়ের হিসাব সংরক্ষণকারী।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৬)

সালাম প্রদানকারী গর্ব-অহংকার থেকে যেমন মুক্ত থাকে, তেমনি বিনয়ীও হয়। বিনয় আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা করে, তাঁর রহমতের অধিকারী বানায়। অহংকার ব্যক্তিকে কলুষিত করে। অহংকার শত্রুতা সৃষ্টি করে আর বিনয় শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত অহংকার নামক মারাত্মক ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য সালামের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া। 

মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ‘সালাম’। বিনা কষ্টে, বিনা মূল্যে অত্যন্ত ফলদায়ক অভিবাদনটির নাম ‘আসসালামু আলাইকুম’। এটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি একটি ম্যাগনেটিক পাওয়ারের নাম। এর মাধ্যমে অপর প্রান্তের ব্যক্তির হৃদয়ে ভালোবাসার বীজ বপন করা হয়। নবী (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো উত্তম ইসলাম কোনটি? জবাবে তিনি বলেন, অন্যকে খাদ্য খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ১২)

সালামের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, শত্রুতা ও পরশ্রীকাতরতা দূর হয়। মহানবী (সা.) বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনয়ন করবে। আর তোমরা ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে? (আর তা হলো) তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রসার করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮৮)

আসুন, আমরা সবাই সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন মজবুত করি। চেনা-অচেনা সবার সঙ্গে বেশি বেশি সালাম বিনিময় করে শান্তি ও কল্যাণ লাভ করি। আমাদের শিশু-কিশোরদের সালামের রীতি-নীতি শিখিয়ে তা তাদের অভ্যাসে পরিণত করে দিই। আমাদের সমাজের সর্বত্র যদি সালামের ব্যাপক প্রচলন করতে পারি তাহলে নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি হবে। সমাজ থেকে বিরোধপূর্ণ মানসিকতা ক্রমান্বয়ে বিদূরিত হবে।

কিউএনবি/অনিমা/০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/বিকাল ৩:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit