বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‎লালমনিরহাটে ‘ভোল বদল’ রাজনীতির কারিগর সোহরাবের পদত্যাগ, আলোচনার কেন্দ্রে ‘সুবিধাবাদ’ দুর্গাপুরে হাম-রুবেলার টিকার ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’: পেজেশকিয়ান নেত্রকোণায় পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ পালিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেত্রকোনায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন আশুলিয়ায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন বাংলাদেশ সিরিজ থেকে শিখতে চায় নিউজিল্যান্ড ঢাবির কলা অনুষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সভাপতি তামিম প্রসঙ্গে যা বললেন অধিনায়ক মিরাজ নরসিংদীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ 

প্রাণিজগৎ সম্পর্কে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০ Time View

ডেস্ক নিউজ : কোরআনুল কারিমে গাধা, খচ্চর, শূকর, কুকুর, গরু, উট, মাকড়সা, মৌমাছি, পিঁপড়াসহ বহু প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রাণী সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞাও এসেছে, যেমন—শূকর; কারো ভক্ষণ বৈধ করা হয়েছে, যেমন—গবাদিপশু; আবার কিছু প্রাণীর মধ্যে আল্লাহ তাআলা বিশেষ উপকারিতা ও নিরাময়ক্ষমতা রেখেছেন, যেমন—মৌমাছি। কিন্তু কোরআনে কোনো প্রাণীকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অভিশপ্ত প্রাণী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে কোরআনে এমন কিছু মানুষের কথা এসেছে, যাদের আল্লাহ তাআলা অভিশপ্ত করেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাদের বানর ও শূকরে রূপান্তর করেছিলেন।

এটি কোনো প্রাণীর প্রতি অভিশাপ নয়; বরং মানুষের অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের শাস্তি। এ প্রসঙ্গে একবার নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিরা প্রশ্ন করেছিলেন—তারা কি বর্তমান বানর ও শূকরগুলো, সেই অভিশপ্ত জাতিরই বংশধর? এর জবাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘আল্লাহ তাআলা কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন বা শাস্তি দেন, অতঃপর তাদের থেকে বংশধর রেখে দেন—এমনটি তিনি করেন না। বাস্তবতা হলো, বানর ও শূকর আগেও পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৩)

ইহুদিদের একাংশকে বানর ও শূকরে রূপান্তর করার ঘটনা একটি সাময়িক শাস্তি ছিল, যা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাআলা সেই রূপান্তরিতদের কোনো সন্তান বা বংশধর দেননি। ফলে আজকের বানর ও শূকরদের সঙ্গে সেই অভিশপ্ত মানুষের কোনো বংশগত সম্পর্ক নেই। সুতরাং কোনো প্রাণীই নিজস্বভাবে অভিশপ্ত নয়; বরং মানুষ যখন আল্লাহর বিধান অমান্য করে, তখন তার শাস্তি হিসেবেই এমন কঠোর পরিণতি আসে। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণনা করেন, এক সফরের সময় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে একজন আনসারি নারী একটি উটে আরোহণ করছিলেন।

উটটি নিয়ে বিরক্ত হয়ে তিনি এক পর্যায়ে সেটিকে অভিশাপ দেন। নবী (সা.) এ কথা শুনে বলেন, ‘এটির ওপর যা আছে তা নামিয়ে নাও এবং একে ছেড়ে দাও; কারণ এটি অভিশপ্ত হয়ে গেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৫)

এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গভীর শিক্ষা তুলে ধরে। রাসুল (সা.) এখানে অভিশাপের ভয়াবহতা এবং এর পরিণতি স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন এবং পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে একজন প্রকৃত মুসলিম অভিশাপ প্রদানকারী হতে পারে না।

ক্ষতিকারক প্রাণী সম্পর্কে উম্মাহাতুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হারাম শরিফের সীমানায় এবং হারামের বাইরে—উভয় জায়গাতেই পাঁচটি ক্ষতিকারক প্রাণী হত্যা করা যায় : সাপ, কাক, ইঁদুর, উন্মত্ত কুকুর ও চিল। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩১৫)

এই হাদিসে যে প্রাণীগুলোর কথা এসেছে, সেগুলোকে ‘ফাওয়াসিক’ বা ‘ফারসাক’ বলা হয়েছে। আরবি ভাষায় ‘ফারসাক’ শব্দের অর্থ হলো সীমা লঙ্ঘনকারী, অবাধ্য বা ক্ষতিকারক। এসব প্রাণীকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে মূলত তাদের দুষ্ট স্বভাব ও মানুষের জন্য সৃষ্ট ক্ষতির কারণে। আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এদের ‘ফারসাক’ বলা হয়, কারণ হারাম শরিফের সম্মান থাকা সত্ত্বেও এসব প্রাণী হত্যা করা নিষিদ্ধ নয়। অর্থাৎ পবিত্র স্থান হোক বা এর বাইরে—উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের নিরাপত্তা ও ক্ষতি প্রতিরোধের স্বার্থে এদের হত্যা করা জায়েজ। এর বিপরীতে ইসলামে এমন কিছু নিরীহ ও উপকারী প্রাণী রয়েছে, যাদের হত্যা করতে নবী (সা.) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও শ্রাইক। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে : পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও শ্রাইক।’
(আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৬৭)

তবে এই নিষেধাজ্ঞা তখনই প্রযোজ্য, যখন এসব প্রাণী মানুষের জন্য ক্ষতিকারক বিবেচিত হবে। যদি কোনো প্রাণী বাস্তবিক ক্ষতি করতে শুরু করে, তাহলে প্রয়োজনের তাগিদে তা দমন করা জায়েজ। মৌমাছি মানুষের জন্য বিশেষ উপকারী—এরা মধু উৎপাদন করে এবং পরাগায়ণের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও ফসলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। হুদহুদ নবী সুলাইমান (আ.)-এর সময়ে পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিল; এটি একটি নিরীহ পাখি, যার হত্যা বা শিকারে কোনো উপকার নেই। আর শ্রাইক একটি বড় আকারের পাখি—যদিও এর মাংস ভক্ষণ করা হারাম, তথাপি এটি ক্ষতিকারক নয়; তাই একে হত্যা করাও নিষিদ্ধ।

সুতরাং ইসলাম অকারণে প্রাণনাশ সমর্থন করে না। যে প্রাণী মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের অনুমতি দেয়; আর যে প্রাণী নিরীহ ও উপকারী, তাদের রক্ষা করার নির্দেশ দেয়। এটি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কিউএনবি/অনিমা/১৬ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ২:৩৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit