সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন

আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট মহাজোটে রশি টানাটানি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৬৪ Time View

ডেস্কনিউজঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট-মহাজোটে রশি টানাটানি চলছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি তাদের আসন বণ্টন। জোট-মহাজোটের শীর্ষ নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো কূল-কিনারা করতে পারছে না।

ইতোমধ্যে ২৯৮ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন শরিকদের চাওয়া পূরণ করতে হলে কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখবে- সে বিষয়টি নিয়েও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সাথে আসন বণ্টন নিয়ে কয়েক দফা দর কষাকষি হলেও কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি জোট-মহাজোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।

নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশের মধ্যে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে টিকে থাকা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে রাজনীতির নানা মেরুকরণের শেষ টানতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জোট-মহাজোটের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বিকেলে তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দলের দফতরবিষয়ক উপ-কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে ‘জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাবে কিনা’- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশঙ্কা আছে, আমাদের দলের অনেকেরই আশঙ্কা আছে; দেশের জনগণের মধ্যেও এটা নিয়ে একটা শঙ্কা আছে। কিন্তু এটা চূড়ান্ত কথা হিসেবে এই মুহূর্তে আমরা বিবেচনায় আনতে পারছি না। ডেমোক্র্যাসিতে অনেক কিছু সম্ভব। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বয়কট করা, ওয়াকআউট করা- এসব বিষয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সব জায়গাতেই আছে। কী হবে এটা তো এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, হলেও হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জোটের নেতারা চাইছেন, নির্বাচনে ছেড়ে দেয়া আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের মাধ্যমে নৌকায় চড়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে। এটা নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি তারা। অবশ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নৌকা মার্কায় নির্বাচন করার ব্যাপারে জোটপ্রধান আওয়ামী লীগের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

তবে ওইসব আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রত্যাহার না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এ দিকে মহাজোটের নেতারা চাইছেন, আসন সমঝোতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে জেতার নিশ্চয়তা। তাদের মতে, কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বাদ রেখে ২৯৮ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। আর প্রায় সব আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নির্বাচনে জেতা কঠিন হবে।

সূত্র আরো বলছে, জাতীয় পার্টির চাওয়া অর্ধশতাধিক আসন নিয়ে দরকষাকষি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টনকৃত সব আসনেই জয়ের নিশ্চয়তার বিষয়ে সরকারি দলের সহযোগিতামূলক অনকূল পরিবেশ চায় জাতীয় পার্টি। আর আওয়ামী লীগ চাইছে, জোট মহাজোটের সব নিবন্ধিত দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আসতে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টিকে তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আগামী জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গড়ে উঠুক। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ একটি সত্যিকারের বিরোধী দল পাক, যারা আগামীতে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের কথা, দেশের মানুষের মনের কথাগুলো বলুক।

জোট-মহাজোটের সাথে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, ২৯৮ আসনেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। বাদ রেখেছে কুষ্টিয়া-২ আসন। ওই আসনের এমপি জোটের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। অবশ্য এ আসনে আওয়ামী লীগের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বাকি আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। তাদের মতে, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় নির্বাচনী সমীকরণ একটু ভিন্নভাবে করতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নিশ্চিত করা এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে গিয়ে ছোট দলগুলোরও এবার কদর বেড়ে গেছে। তবে জোটের শরিকরা সেই সুবিধা পাচ্ছে না। তারপরও জোটের শরিকদের কয়েকটি আসন ছাড় দিতে হচ্ছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিও চায় অর্ধশতাধিক আসন। আবার আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও কল্যাণ পার্টিসহ যেসব দল ও ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে সেসব কয়েকটি দল ও জোটকে কিছু আসন ছেড়ে দিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন, এর বাইরেও বিদেশী শক্তির কিছু পছন্দ-অপছন্দ আছে। প্রত্যেক নির্বাচনে সরকারকে ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর মতামতের প্রাধান্য দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে আসন ছাড় দিতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০টি। সে ক্ষেত্রে নানা হিসাবনিকাশ করতে গিয়ে কাকে রাখবে কাকে বাদ দেবে- তা নিয়ে এক দিকে আওয়ামী লীগ সমন্বয় করতে হিমশিম খাচ্ছে অপর দিকে প্রত্যেক দল ও জোটের সাথে দরকষাকষিতে বনিবনাও ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না। যার কারণে মূলত জোট মহাজোটের আসন বণ্টন নিয়ে রশি টানাটানি চলছে।

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দল ও জোটকে কিছু কিছু আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে সময় লাগছে। এ জন্য হয়তো আসন বণ্টনে সময় নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আগামী ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জোটের আরেক শরিক জাসদের সহসভাপতি মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি আছে, জোটের শরিক আছে, আবার অন্যান্য পার্টি আছে যাদেরকে সরকার নির্বাচনে আনছে তাদেরকেও আসন ছাড় দিতে হবে। এসব মিলিয়ে সমন্বয় করতে কিছু সময় লাগছে। তবে আমি মনে করি, জোট-মহাজোটের সব প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জিতে আসা উচিত। এতে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অংশগ্রহণমূল নিশ্চিত হবে, ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থী জিতিয়ে আনতে পারবে। জোটের আরেক শরিক বাসদের আহ্বায়ক কমরেড রেজাউর রশীদ খান বলেন, আমরা ২০টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছি। এর মধ্যে দু’টি আসন দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দিলেও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রত্যাহার না করলে আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রজ্ঞাপূর্ণ হবে না। আমরা চাই, আমাদের ছেড়ে দেয়া আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হোক।

এ নিয়ে অবশ্য সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জিতে আসার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমরাও করব, শরিকদেরও করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নির্বাচনের রেজাল্ট আনতে হবে।

কিউএনবি/বিপুল/১৩.১২.২০২৩/সকাল ১১.৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit