ডেস্কনিউজঃ কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত মনোনয়নের তালিকায় বড় রকমের চমক দেখা গেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। তার স্থলে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট বিপ্লব হাসান পলাশ।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক এমএ মতিনের স্থলে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে (গবা পান্ডে)।
দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের কাছে জাকির হোসেন ও অধ্যাপক এম এ মতিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ করেছেন দলের অপরাপর মনোনয়ন প্রার্থী ও স্থানীয় নেতারা। এরই প্রেক্ষিতে এই পরিবর্তন কীনা তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জনে সরব এখন এই দুটি নির্বাচনী এলাকা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ১৬ নেতা গত ২২ নভেম্বর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তাঁর বিরুদ্ধে বালু ব্যবসা, ভূমি দস্যুতা, মাদক সেবন ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
অপরদিকে উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক এম এ মতিনের বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আহসান হাবীব রানা ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু লিখিত অভিযোগে ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি, টিআর কাবিখায় দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ করেন। অবশ্য তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া গবা পান্ডে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। এর আগে কয়েকবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি।
দীর্ঘদিনের ত্যাগের পুরস্কার তিনি পেয়েছেন বলে স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন। উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার আল মামুন সবুজ বলেন, ‘আমি নিজেও মনোনয়ন প্রার্থী ছিলাম। সব দিক বিবেচনা করে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। উলিপুরে এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল।’
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়া বিপ্লব হাসান পলাশ তরুণ প্রার্থী হয়ে প্রথম চাওয়াতেই বাজিমাত করায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।
বিশেষ করে দুবারের এমপি ও প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে তাকে মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিলমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিচু বলেন, ‘জাকির হোসেন দুর্নীতির কারণে ব্যাপকভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাকে বাদ দেওয়ায় নেতা-কর্মীরা অনেক খুশি। এখন সবাই মিলে নৌকার পক্ষে কাজ করব।’
কিউএনবি/বিপুল/২৬.১১.২০২৩/ সন্ধ্যা ৭.০০