ডেস্ক নিউজ : হজরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আগের জাতিগুলোর কাছে জুমার মর্যাদা অজ্ঞাত রাখেন। তাই ইহুদিরা শনিবার নির্ধারণ করে। আর খ্রিষ্টানরা রোববার নির্ধারণ করে। অতঃপর আমরা আসি। আমাদের কাছে তিনি জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করেন।’ (মুসলিম ৮৫৬)
জুমার দিনে অন্যতম একটি আমলের নাম দরুদ পাঠ। দরুদ শব্দটি আরবি সালাত শব্দের সমার্থক। সালাত অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা, রহমত বর্ষণ করা, দোয়া করা, কল্যাণ কামনা করা। রসুল সা.-এর ওপর দরুদ পাঠ আমাদের জন্য ওয়াজিব। জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা হাদিস শরিফে এসেছে।
اللَّهمَّ صلِّ علَى محمَّدٍ النَّبيِّ الأُمِّيِّ وعلى آله وسلم تسليمًا উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা’তার ৮০ বছরের পাপ ক্ষমা হয়ে যায় ও ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়। (আফজালুস সালাওয়াত ২৬, আত-তারগিব ফি ফাযায়িলিল আমাল ১৪ পৃষ্ঠা)
হজরত আবু উমামা রা. বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেন, ‘আমার ওপর জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। কারণ আমার উম্মতের দরুদ জুমার দিন আমার কাছে পৌঁছানো হয়। যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠাবে, সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সবচেয়ে আমার নিকটতম হবে।’ (তারগিব ১৫৭)
ইসলামি ইতিহাসে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হযরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সা. জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। ১. আল্লাহ তাআলা এই দিনে প্রথম মানব হজরত আদম আ.-কে সৃষ্টি করেছেন। ২. জুমার দিনে আদম আ.-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। ৩. জুমাবারে হযরত আদম আ.-কে মৃত্যু দিয়েছেন। ৪. এ দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা কুবল করবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। ৫. সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এ দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৮৯৫)
কিউএনবি/আয়শা/১০ নভেম্বর ২০২৩,/দুপুর ১২:০৫