এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় দূর্গাৎসব হচ্ছে না দিঘলসিংহা হালদার পাড়ায়। মানবেতর জীবন যাপন করছেন দিঘলসিংহা গ্রামের হালদার পাড়ার বাসিন্দারা। ব্যাপক ভাবে অভাব-অনাটন আর অর্থ সংকটে পড়েছেন নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো। সারাদেশে সনাতন ধর্মালম্বীদের বড় উৎসব দূর্গাপূজা। এ উৎসবের ১৫ দিন থাকতে এলাকার মেয়ে জামাইরা বাপের বাড়ীতে আসতে শুরু করে। বয়ে চলে আনন্দের ফুয়ারা। এলাকা জুড়ে শুরু হয় পূজার আনন্দ। পূজায় মন্দির এলাকায় বসে মেলা হরেক রকমের দোকান পাশারী। শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা চোখে পড়ার মত।
সনাতন ধর্মালম্বীদের বড় উৎসব দূর্গাপূজা। মা দূর্গা পিড়িতে উঠার সাথে সাথে ঢাকিদের ঢাকের তালে তালে পূজা অর্চনায় মেতে থাকেন ভক্তোরা। কাক ডাকা ভোর থেকে সেই রাত পর্যন্ত চলতে থাকে পূজার কাজ। আনন্দে মেতে থাকে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। তবে এ বছর অভাব-অনাটন আর অর্থ সংকটে দিঘলসিংহা হালদার পাড়ায় রাধাগোবিন্দ মন্দিরে দূর্গাৎসব হচ্ছে না। এ পাড়ায় হিন্দু পরিবার মানুষ গুলোর মধ্যে নেই আনন্দের লেসমাত্র। শিশুদের জোটেনি পূজার নতুন জামা-কাপড়। আসেনি জামাই-মেয়েরা। হিন্দু পাড়ায় ঘরে-ঘরে চলছে অনাটন।
সরেজমিনে শনিবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘলসিংহা গ্রামের হালদার পাড়ায় গেলে চোখে পড়ে এ পাড়ার রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে হচ্ছে না দূর্গাপূজা। নেই ঢাক, শঙ্খ ও উলুর ধ্বনি। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত এ মন্দিরে নেই মা দূর্গা নেই কোন পুরোহিত। কথা হয় দিঘলসিংহা গ্রামের রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে সভাপতি শ্রী নিমাই চন্দ্র বিশ্বাসের সাথে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ মন্দিরে মায়ের পূজা হয়ে আসছে। নামযোগ্য সহ সকল প্রকার পুজা পার্বন পালন করা হয়। এবার আর্থিকসংকটের কারনে পূজা করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমাদের যে আয় তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মানবেতর জীবন যাপন করছেন দিঘলসিংহা গ্রামের হালদার পাড়ার বাসিন্দারা। ব্যাপক ভাবে অভাব-অনাটন আর অর্থ সংকটে পড়েছেন নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো। ফলে পাড়ার সকলের সাথে মত বিনিময় করে ও অভাব-অনাটন আর অর্থ সংকটেরকারণে এ মন্দিরে পূজা বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বছর প্রতিমা, ঢাকি, লাইটিং, মাইক ও পুরোহিত খরচ বেড়ে যাওয়ায় পূজা পালন করা সম্ভব হয়নি।
রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজ কমল বিশ্বাস বলেন, বাপ-ঠাকুরদার সময় থেকে প্রতিবছর আমাদের মন্দিরে নামযোগ্য সহ সকল প্রকার পুজা পার্বন পালন করা হয়। এবার আর্থিকসংকটের কারনে পূজা করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমাদের যে আয় তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। আমাদের পাড়ার অনেক পরিবার কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। নদ খননের ফলে জলের স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধা পড়েছে। তাই নদে মাছ নেই। এই সময় আমরা বরশি, জালসহ বিভিন্ন উপকরণ ও ডোঙ্গা ব্যবহার করে মাছ ধরতাম সেই মাছ বিক্রি করে সংসার চলতো। এখন আর মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করছে। বর্তমান নদে মাছ ধরার কোন উপায় নাই যারা মাছ ধরে সংসার চালাই তাদের ব্যাপক সমস্যা।
এ সময় কথা হয় একাই গ্রামের পাচু কুমার বিশ্বাস (৩৫), শ্রীমতি ছায়ারানী (৫২), যুদিষ্টি কুমার বিশ্বাস (৫৩), সন্তোষ কুমার বিশ্বাস (৫৩), শোভা রানী (৭০), মহাদেব বিশ্বাস (৩০), দিনো বন্ধু বিশ্বাস (৬৫), পুতুল রানী বিশ্বাস (২২) ও চিনিবাস কুমার (৫৩) তারা সকলেই বলেন, আমাদের যে আয় তা দিয়ে বর্তমানে নিত্যপণ্যে দামের সাথে দৌড়িয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। বাপ-ঠাকুরদার সময় থেকে প্রতিবছর আমাদের মন্দিরে নামযোগ্য সহ সকল প্রকার পূজা পার্বন পালন করা হলেও এবার আর্থিকসংকটের কারনে দূর্গা পূজা হচ্ছেনা।
উপজেলা হিন্দুঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলার ৪৯ টি মন্ডবে দূর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারি ভাবে প্রতিটি মন্দিরে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দিঘলসিংহা রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগযোগ করলে তারা বলেন এ বছর মন্দির সংস্কার কাজে বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গেছে। ফলে আর্থিকসংকটের কারনে দূর্গা পূজা করা সম্ভব হবে না।
কিউএনবি/আয়শা/২১ অক্টোবর ২০২৩,/বিকাল ৪:৫০