শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আর্শদীপকে আইপিএল থেকে নিষিদ্ধের দাবি, কিন্তু কেন শরীয়তপুরে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে মাটিরাঙ্গায় ইমাম ও ওলামা ফাউন্ডেশনের বিক্ষোভ সমাবেশ। আম গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু রাঙামাটিতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক আগামী ২০ মে গুইমারায়  প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি। চুরির মামলার আসামির মৃত্যু কারাগারে নওগাঁর মান্দায় অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান, ১৫ জন গ্রেপ্তার ব্যবসা উপকরণ বিতরণ প্রান্তিক নারীদের মাঝে

দৌলতপুরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সরকারী বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মো. সাইদুল আনাম,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৯৩ Time View

মো. সাইদুল আনাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জন্য সরকারী বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থ নামমাত্র মূল্যের নাস্তা দিয়ে বাঁকী অর্থ যাচ্ছে কর্মকর্তাদের পকেটে এমন অভিযোগ করেছেন খোদ ক্লাবের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে দেশে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলা ও নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের বিশেষ উদ্যোগ নেয়। সে লক্ষ্যে ৫৫১কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলায় ৪ হাজার ৮৮৩টি ক্লাব স্থাপন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ১৪টি ইউনিয়নে ১টি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়। কিন্তু ক্লাবের শিক্ষার্থীদের জন্য নাস্তার টাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে খোদ দৌলতপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে অথচ দেয়া হচ্ছে ১০টাকা থেকে ১২ টাকার নি¤œমানের নাস্তা। আর বাঁকী টাকা চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে। এতেকরে প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রকল্পের কাগজে ও বাস্তবে রয়েছে ব্যাপক গরমিল। উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কাগজে-কলমে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র ১০-১৫ জন। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে ওইসব কেন্দ্রে শিক্ষকসহ ৩৫ জন উপস্থিত দেখিয়ে নাস্তার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। ক্লাবের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদেরকে ছোট কেক আর কলা দেয়। এই নাস্তার সর্বোচ্চ ১০টাকা থেকে ১২ টাকার বেশী হবেনা।এছাড়ও ২০২২ সালে তৎকালীন দৌলতপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন কর্মরত থাকা অবস্থায় নিম্নমানের ক্রীড়া সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র সরবরাহ করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ক্রয়করা ওইসব নি¤œমানের বাদ্যযন্ত্র বছর না ঘুরতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যা এখনও অব্যহারযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাস্তা বাবদ ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নাস্তা দেয়া হয় মাত্র ১০-১২ টাকার। শিক্ষকরা আরো বলেন, তাদের ক্লাবে সকল বাদ্যযন্ত্র একেবারে নি¤œমানের দেওয়া হোয়েছে যা বছর যেতে না যেতে নষ্ট হয়ে গেছে। একবছর যাবৎ হারমোনিয়ামগুলি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তালযন্ত্র তবলা যেটা দিয়েছে সেটারও একই অবস্থা। বাদ্য যন্ত্র না থাকায় ক্লাবের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ভর্তি হতেও অনিহা প্রকাশ করছে।নাস্তার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জেন্ডার প্রমোটার আসাদুজ্জামান লিটু বলেন, নাস্তার জন্য বরাদ্দ ৩০ টকার পরিবর্তে ২০ টাকা করা হয়েছে। এরমধ্যে তেল খরচ বাবাদ ২ টাকা করে তার নিজের রয়েছে। সরকারী ফিস কেটে যে টাকা থাকে সেই টাকার নাস্তা দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি খাতা কলমে হিসাব পুঁজিয়ে দেওয়ার কথাও জানান।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার আমিরুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের সংস্কৃতি মনা করে তোলার জন্য সরকারের যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটা অসৎ কিছু সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দৌলতপুরে কিশোর কিশোরী ক্লাব গুলোর জন্য যে বাদ্যযন্ত্র দেওয়া হয়েছিল সেগুলো খুবই নিম্নমানের হওয়ার কারনে তৎকালীন সময় আমরা সেগুলো ফেরত দিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবারও সেগুলোকে নতুন করে রং লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে হস্তান্তর করে। সে বাদ্যযন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। এতে সরকারের যে মহৎ উদ্যোগ সেটা ব্যাহত হচ্ছে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।শিক্ষার্থীদের নাস্তায় অনিয়মের বিষয়ে দৌলতপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরী ক্লাবে কোন অনিয়ম নাই, কার্যক্রম সুষ্ঠ ভাবে চলছে।

দৌলতপুরের প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন শিক্ষর্থীর জন্য নাস্তা বরাদ্দ আসে ৩০ জনের নাস্তা দেওয়া হয়। নি¤œ মানের নাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ফিল্ড সুপারভাইজার মনিটরিং করে, আমি ফিল্ড সুপারভাইজারের সাথে কথা বলে বিষটি দেখছি। বাদ্যযন্ত্র বা তালযন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন সরকারী বরাদ্দ আসলে আমরা সেটা মেরামত করে দেব।ফিল্ড সুপাভাইজার কাবিল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ১জন সুপারভাইজার ৩-৪টা উপজেলার দায়িত্বে আছেন। তাই জেন্ডার প্রমোটারদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নাস্তা বন্টনের।কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাস্তার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, এবিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা ও জ্ঞান বিকাশের যারা অন্তরায়, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

কিউএনবি /অনিমা/১৩.১০.২০২৩/রাত ৮:৪৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit