শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

ইতালিতে বৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৩০৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ ইউরোপের দেশ ইতালিতে ৯০ দশক থেকে বাংলাদেশিদের আসা শুরু হয়। তবে এটি তীব্র হয় ২০০০ সাল থেকে। ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশিরা এখন ইতালিতে অষ্টম সর্বোচ্চ।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ইতালির শ্রম ও সামাজিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী ইতালিতে নিয়মিতভাবে বসবাস করছেন এক লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জন বাংলাদেশি অভিবাসী। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশিরা থাকেন ফ্রান্সে এবং তৃতীয় প্রধান দেশ স্পেন। তবে ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বাস করেন যুক্তরাজ্যে। ব্রেক্সিটের পর দেশটি আর ইইউর অংশ না হওয়ায় ইতালিতে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাংলাদেশি কমিউনিটির বসবাস।

২০০২ সালে ইতালিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার। অর্থাৎ ২০ বছরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাত গুণ। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইতালি থেকে যেসব দেশে অভিবাসী রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ইতালি থেকে পাঠানো মোট রেমিট্যান্সের ১৫ শতাংশ যায় বাংলাদেশে।

বাংলাদেশিরা যেসব প্রাসঙ্গিক কারণে ইতালিতে স্থায়ী হচ্ছেন সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা, নাজুক অর্থনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইতালি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি থেকে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের (আইডিএমসি) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে ৪৪ লাখেরও বেশি মানুষ জলাবয়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হয়ে তাদের ঘর বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

২০২০ সালে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ দেশ। টানা বন্যা বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অন্যতম। অপরদিকে, বিশ্বের অনেক দেশের মতোই করোনা মহামারি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

৯০-এর দশকে ইতালিতে আসা বাংলাদেশি অভিবাসীরা মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এক দল উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ। তারা নিজেদের সামাজিক মর্যাদা ও উন্নত জীবনের খোঁজে ইতালিতে আসতে শুরু করেন।

অপর ভাগে ছিলেন, অদক্ষ পুরুষ অভিবাসী, যারা কোনো একটি কাজের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশে থাকা নিজেদের পরিবারের খরচ যোগান দেওয়ার লক্ষে ইতালিতে আসতে শুরু করেন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা বাংলাদেশিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব ব্যক্তি প্রায়শই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে থাকেন। মূলত লিবিয়ায় ‘সেকেন্ডারি মাইগ্রেশন’ বা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে আসা তরুণ বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাসত্বের শর্ত থেকে মুক্তি পেতে ভূমধ্যসাগরের পথ বেছে নেন।

কিউএনবি/বিপুল/১০.১০.২০২৩/ বিকাল ৪.৩১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit