স্পোর্টস ডেস্ক : দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলকে তিনটি শিরোপা জিতিয়েছেন মেসি। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসসিমার পর অনেক সাধের বিশ্বকাপ। ৩৫ বছর বয়সে সে বিশ্বকাপ জেতার পথে যা করেছেন এই ফুটবল জাদুকর, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তা বিরল হয়ে থাকবে বছরের পর বছর।
ক্লাব ফুটবলের পর আন্তর্জাতিক পরিসরেও সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে মেসি নিলেন অন্যদিকে মোড়। যেটা কেউ ভাবেনি সেটাই করলেন মেসি। ফর্মে থাকা অবস্থায়ই ছাড়লেন ইউরোপ। নামীদামী সব অপশন ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর এর পিছনে কারণটা ছিল এমন, পরিবারকে নিয়ে এখন আনন্দে থাকতে চান মেসি, ফুটবলটাও খেলতে চান উপভোগ করার জন্য।
তবে যার রক্তেই আছে শিরোপাক্ষুধা, তাকে কী আর ট্রফি থেকে দূরে রাখা যায়! যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলকে মাত্র দুই মাসেই দেখিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা, কেন তাকে বলা হয় ফুটবল জাদুকর। আক্ষরিক অর্থেই একটা ভাঙাচোরা দলকে দুই মাসের মধ্যে শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিলেন। এই না হলে বিশ্বসেরা মেসি!
মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। ৭টিই লিগস কাপে। রোববার (২০ আগস্ট) নাশভিলের বিপক্ষে ফাইনালের একটি গোলসহ করেছেন মোট ১০টি গোল। প্রতিটি গোলের পরই মেসির উদ্যাপন দেখে মনে হয়েছে এখনো তিনি ফুটবল দারুণ উপভোগ করছেন।
মেসি আসার আগে টানা দশ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি মায়ামি। কখনো শিরোপা জেতার সম্ভাবনাই দেখাতে না পারা দলটি শেষ ৭ ম্যাচের সবগুলোতে জিতে শিরোপা জিতল। ‘মেসি ইফেক্টের’ ব্যাপারটা তো আর আলাদা করে বোলার কিছু নেই এখানে, তবে মেসি নিজেও এই দল নিয়ে বেশ আন্তরিক। নাশভিলকে টাইব্রেকারে ১০-৯ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামিকে প্রথম শিরোপা এনে দেওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। উদযাপন করলেন বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মতো করেই।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি জিতেছেন মেসি। তাকে ঘিরে সতীর্থদের উদযাপন ছিল বেশ। মেসিও তাদের উদযাপনে সাড়া দিয়েছেন নেচেগেয়ে। শিরোপা জয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস!!! ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জিতে খুব খুশি। সবার কঠিন পরিশ্রম আর নিবেদনের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, মাত্র তো শুরু…চলো এগিয়ে যাই।’
কিউএনবি/আয়শা/২০ অগাস্ট ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৩৩