এম,এ,রহিম চৌগাছা (যশোর ) : যশোরের চৌগাছায় শ্রাবণের ঝিরিঝিরি বর্ষায় চাষীর মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। ব্যবস্ততা বেড়েছে আমন চাষীদের। যার ফলে মনের আনন্দে আমন ধানের পরিচর্যা করছেন চাষীরা। তবে এখনও পাট জাগ দেওয়ার মত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট চাষীরা রীতিমত হতাশায় কাটাচ্ছেন দিন ।
জানা যায়, চলিত আমন মওসুমে চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রায় বিশ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ বছর আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষের প্রায় আশি ভাগ জমিতে সেচের মাধ্যমে ধান রোপন করা হয়েছে। আষাঢ় শেষ আজ ৩০ শে শ্রাবণ হলেও আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের পানি নিয়েই আমন চাষের কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। এমতাবস্থায় আমন উৎপাদনে কৃষেকর বিঘা প্রতি খরচ কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা বাড়বে বলে অভিজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন। তারপরেও আমন ধান পুরোপুরি সেচ নির্ভর হলে ধানক্ষেতে নানা রকম রোগ বালাই লেগেই থাকে। শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছিলন চাষীরা। হঠাৎ গত কয়েকদিন ধরে মুষলধারে না হলেও ঝিরিঝিরি করে প্রতিদিনই প্রায় বৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে প্রায় দশ দিন যাবৎ সেচ পা¤পগুলো বন্ধ রয়েছে। কৃষকেরা পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন ক্ষেতপরিচর্যার কাজে।
উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের আমন চাষী সাবের আলী সরদার, সাইফুল ইসলাম, সামছুল হুদা দফাদার, টনিরাজ খান, সাগর খান, ইছাহক আলী দফাদারসহ আরো অনেকে জানান, থেমে শ্রাবণের যে বৃষ্টিটুকু হচ্ছে তাতেই আমন ধানের বেশ উপকার হচ্ছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমন চাষী বাবুল আক্তার, নুরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ পন্ডিত ও জহির উদ্দীন জানান, বর্তমানে যেবৃষ্টিপাত হয়েছে তাতেই মাঠে আমন ধানের চেহারা পরিবর্তন এসেছে। শ্রাবণে বৃষ্টি কম হলেও প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়াতে আমন ধানের অবস্থা ভাল।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, চলতি মওসুমে আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমন ধানের চাষ নিয়ে আমরা দু:শ্চিন্তায় ছিলাম। শ্রাবণের শেষে এসে হালকা বৃষ্টি আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। বর্তমানে চৌগাছা উপজেলার মাঠে মাঠে ধানের সবুজ চারা স্বপ্ন দেখাচ্ছে চাষীদের। তিনি আরো বলেন, চাষীরা যাতে নির্বঘঘ্নে তাদের ধান চাষ করতে পারে তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। তিনি আশ্বস্ত করেন সার ও কিটনাশকেরও কোন সংকট হবে না।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ অগাস্ট ২০২৩,/রাত ৮:২৫