রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান নস্যাৎ করার দাবি হিজবুল্লাহর নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিরল ফোনালাপ বাউবির বিএমএড ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক পরকীয়া দ্বন্দ্বের জেরে বৃদ্ধকে কিলঘুষির ভিডিও ভাইরাল, থানায় মামলা ইরানে হামলা করে অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, চিন্তায় মিত্ররা সাইপ্রাসে এফ-১৬ বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তুরস্কের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি; হাতা-কড়াই-খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মমতার নওগাঁয় মানাপের উদ্যোগে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ

অব্যবস্থাপনার বলি চার মাজার ভক্ত

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৮৮ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : কাগজে কলমে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৫০০ এর মতো। দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের মতো রেললাইন দেখার জন্যই রয়েছে ৫০ জনের মতো রেলওয়ে পুলিশ। তবে ওই পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়েই চলে হাজারো মাজার ভক্ত। কোনো কৈফিয়ত না থাকার জেরে প্রাণ গেলো চার মাজার ভক্তের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুর এলাকায় অবস্থিত শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) এর মাজারের ওরস চলাকালে বৃহস্পতিবার রাতে এক দুর্ঘটনায় ওই চারজন মারা যান। এর মধ্যে ট্রেন আসতে দেখে লাফিয়ে পড়ে তিনজন ও ট্রেনে কাটা পড়ে একজন মারা গেছেন।
মাজার ভক্তরা এজন্য ওরস পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। নতুন রেললাইন স্থাপনের পর গত কয়েক বছর ধরে একইস্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও শুরু থেকে পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনা করেছেন অনেকে। 
এদিকে রেললাইন দিয়ে লোকজন চলাচল ছাড়াও সরজমিনে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে। মাজার কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মূলত বাণিজ্যকে প্রাধান্য দেওয়ায় আগতদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য দিকে নজরই দিচ্ছেন না। এ নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে ওই সেতুর দু’পাশে বাঁশ দিয়ে আটকে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া রেললাইন ধরে চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। তবে নৌপথে অনেকে এসে রেললাইনে পাশে নৌকাসহ অবস্থান করছেন বলে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। 
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে হওয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার নোয়াকান্দি গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে শুক্কুর মিয়া (৬০), একই জেলার পলাশ উপজেলার মোতালেব মিয়ার পুত্র মোজাম্মেল (২০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার চিলকান্দি গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেরে মতি ভূইয়া (৫৫)। অপর একজনের বাড়ি নোয়াখালীর দাগনভ‚ঞা উপজেলায় জানা গেলেও তার নাম বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামে আহত একজনকে উদ্ধার করে রাতেই আখাউড়া হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। শুক্রবার সকালে তার স্বজনরা এসে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার রাত পৌণে নয়টার দিকে মাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় হতাহতসহ কয়েকশ’ মানুষ রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। এর মধ্যে সেতুতে থাকা কয়েকজন লাফিয়ে পড়ে। কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুক্কুর আলী। একটু পরেই তিতাস নদীতে মোজাম্মেলের লাশ পাওয়া যায়। শুক্রবার ভোরে ও দুপুরে নদীতে আরো দু’জনের লাশ ভেসে উঠে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসব লাশ উদ্ধার করেন। রেলওয়ে পুলিশের দাবি, রাতে দায়িত্বরত পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কয়েকশ’ মাজার ভক্ত রেললাইন ধরে খড়মপুর মাজার শরীফের দিকে যাচ্ছিল। এ সময়  সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস দেখে শুক্কুর মিয়া সেতু থেকে লাফিয়ে পড়েন। আরেকজন সেতু পার হওয়ার সময় কাটা পড়ে মারা যান। তখন আরো একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন। 
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা-১১টা পর্যন্তও বেশ লোকজন ছিলো। মাজার উপলক্ষে বসা মেলার দোকানগুলোর কারণে হাঁটা চলাও দায়। মাজারের প্রবেশের মূল সড়কটি তেমন চওড়া না হওয়া ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মাজারের ঠিক দক্ষিণ দিকে ঘাটলা থাকলেও সেখানে নৌকার সংকুলান হয় না। যে কারণে আখাউড়া থেকে বাইপাস হয়ে সিলেটে যে রেলপথ গেছে সেটির পাশে তিতাস নদীতে নৌকা রাখতে হয়। সেখান থেকে রেললাইন ধরে লোকজনকে মাজারে আসতে দেখা যায়। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক সমাগম হলেও পানীয় জল ও টয়লেটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেশ কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়। 
বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা সম্পর্কে নিহত শুক্কর আলীর ছোট ভাই সামসুল হক বলেন, ‘রাত আটটার দিকে নৌকা নিয়ে আমরা ৪০-৪৫ জন খড়মপুর আসি। মাজারের পশ্চিমে রেললাইনের পাশে নৌকা রেখে কয়েকজন হেঁটে মাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ ট্রেন চলে আসে। এ সময় আমার ভাই পানিতে পড়ে যায়। উদ্ধারের পর আমরা তার লাশ শনাক্ত করি।’মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে কাগজে কলমে পাঁচশ’ এর মতো আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য রয়েছে। শুধু রেলওয়ের অংশটুকুর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ৫৪ জন। এরপরও এমন ঘটনা ঘটলো। আমি মনে করি সবাই যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এমন অনাকাংখিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আমরা সংশ্লিষ্টকে কথাগুলো বলেছি। ওরসের আগে এ নিয়ে সভাও হয়েছে। যেখানে সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়।’ 
তিনি জানান, সার্বিক বিবেচনায় কমিটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা যদি সার্বিক নিরাপত্তায় ব্যর্থ হন তাহলে তারা তাদের মতো করে চেষ্টা করবেন। আমরা চাই সুন্দরভাবে ও নির্বিঘ্নে যেন ওরস উদযাপিত হয়। আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘মাজারে আসা লোকজন পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রেলসেতু পারাপার হচ্ছিল। এ সময় ঢাকাগামী পারাবত  ট্রেন  আসার সময় হলে দুই পাশে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসার সংকেত দেয়। এ সময় সবাই রেললাইন থেকে নেমে পড়লেও ওই কয়েক ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে রেলসেতু পারাপার হতে চান।’ 
শুক্রবার বিকেলে তিনি জানান, ঘটনার পর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নামাজ, খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘৫০ জন পুলিশকে তিন শিফটে ডিউটি করানো হচ্ছে। এর মধ্যে রেললাইন এলাকাসহ স্টেশন রয়েছে। সব মিলিয়েএত এত লেক সামলানো কঠিন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। দুই পাশে বাঁশ বেধে সেই সেতু দিয়ে চলাচল একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেললাইন ধরে চলা লোকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।’আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা সেখানে যাই। বৃহস্পতিবার রাতে দু’জন ও শুক্রবার আরো দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আর কোনো লাশ আছে কি-না খোঁজা হচ্ছে।’
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, ওরস উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রেললাইনের অংশে রেলওয়ে পুলিশ দায়িত্বে রয়েছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, ‘যে রেলসেতুতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি দিয়ে লোক পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবীদেরকেও সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে আখাউড়া খড়মপুর মাজার শরীফে বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। ১৪ আগস্ট আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরস শেষ হবে। ওরসে লাখো লোকের সমাগম হয়। ওরস উপলক্ষে মাজার ও এর আশেপাশে মেলা বসে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ অগাস্ট ২০২৩,/দুপুর ২:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit