আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ তুরস্কের আন্তাকিয়া উপকণ্ঠের ধুলোময় জমিতে এখন পানির হাহাকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া শত শত মানুষ এখন সেখানে পানির জন্য ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আজ সোমবার (আগস্ট ০৭) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভূমিকম্পের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সুপেয় পানিসহ রান্না ও ধৌত করার মতো পর্যাপ্ত পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত ছয় মাসের চেষ্টায়ও প্রশাসন ভূমিকম্পে ফেটে যাওয়া পাইপগুলো সংস্কার করতে সক্ষম হয়নি। ফলে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে পানি ‘মহামূল্যবান পণ্য’ হয়ে উঠেছে।
হাতায় প্রদেশের রাজধানী আন্তাকিয়ায় ভূমধ্যসাগরীয় তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ফারেনহাইট) ওপরে বেড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ ওই অঞ্চলের প্রাণিজগতের তৃষ্ণার পরিমাণ যতটা বেড়েছে পানি ততটাই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।
ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে এক ডজন পানির বোতল সংগ্রহ করছিলেন ৪৩ বছর বয়সী আয়হান তেকিন। তিনি বলেন, আমরা পানি, খাবার ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ধুলো ও ধোঁয়া থেকে বের হতে পারছি না। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলেই বুঝতে পারি গোসল করা কতটা জরুরি। কিন্তু আমরা গোসল করতে পারি না। কোনো কিছু পরিষ্কার করতে পারি না। সবকিছু নোংরা থাকায় মাছি ও কীটপতঙ্গ ঘিরে ধরে।
হাতায় মেডিকেল চেম্বারের প্রধান সেভদার ইলমাজ বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও ভবনগুলো ভাঙার সময় পানি ব্যবহার করা হয়নি। এতে ধুলা নিবারণ করা যায়নি। এটি ভবিষ্যতে চোখের অসুখ, গলার অসুখসহ নানা রোগের কারণ হবে। এরই মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট এখানে সাধারণ অসুস্থতায় পরিণত হয়েছে।
ইলমাজ জানান, ভবিষ্যতে হাঁপানির মতো রোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফুসফুস, গলা ও স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঘটনা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে বর্তমানে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
কিউএনবি/অনিমা/৮ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৩:০৮