রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে জিনের বাদশা সাইফুল ও খায়রুল মাদক সহ গ্রেফতার প্রথম দিন শেষে ২৫৭ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান ইরান অন্তহীন ধৈর্য ধরবে না: খামেনির উপদেষ্টা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে : অর্থমন্ত্রী গাজীপুরে পাঁচ খুন: অভিযুক্ত ফোরকানের লাশ পদ্মা থেকে উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মির্জা ফখরুল : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না মওলানা ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চ করেছে, প্রয়োজনে আমরা সীমান্ত লংমার্চের ঘোষণা দিবো: নাহিদ ইসলাম ব্যাংককে পণ্যবাহী ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত কমপক্ষে ৮ জিলহজের প্রথম ১০ দিনে বেশি বেশি নেক আমল করুন: সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি হাম উপসর্গে আরো ২ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৪৫০

আশুরা— প্রচলিত কুসংস্কার থেকে সাবধান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩
  • ১২৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুসলিম ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিনের নাম- আশুরা। যে নামের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক বহু ঘটনা। যেগুলো মুসলমানদের অন্তরের গহিনে এসে ক্ষত স্থানগুলোর ব্যথাকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু আফসোসেরা তখনই ডানামেলে ঘিরে ধরে, যখন দেখি মুসলিম সমাজ তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। বরং তারা ভুলভাবে নিজেদের ইতিহাস তুলে ধরছে।

পবিত্র আশুরা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কার বিদ্যামান। হৃদয়বিদারক কথা হলো- পবিত্র আশুরা আমাদের তথাকথিত সমাজের লোকসাহিত্য ও অপসংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। অথচ মহান আল্লাহ ও রাসুলে করিম (সা.)-এর সুমহান শিক্ষায় যেগুলোর কোনো স্থান নেই। যার ফলে আমরা ইসলামের যথাযথ আলো থেকে ক্রমশ সরে গিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার জগতে বিচরণের স্বল্পতা।

মহররম মাসের আশুরার দিনে দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে মহান আল্লাহ চিরকালের জন্য নবী হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারী ইমানদারদের ফেরাউনের জুলুম থেকে নাজাত দিয়েছিলেন। এদিনই ফেরাউনকে তার বাহিনীসহ লোহিত সাগরে ডুবিয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন সীমালঙ্ঘনকারী ফেরাউনসহ তার বাহিনী ও বিশ্ববাসীকে। যেদিন আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছিল নবী হজরত মুসা (আ.)-এর বিজয় ও ফেরাউনের পতনের মাধ্যমে। কিন্তু অনেকেই যথাযথভাবে না জেনে এমনকি ভ্রান্ত প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে আশুরা বলতে, কারবালার ময়দানে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানীয় ব্যক্তিদের শাহাদতের ঘটনাকেই বুঝে। তাদের অধিকাংশদের মতে, কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার ইতিহাস। কিন্তু মদিনার ইহুদিদের উদ্দেশ্য করে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে লক্ষ করা যায়, ‘নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, হজরত মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং উম্মতকে তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন।’ -সহিহ বোখারি : ৩৩৯৭

বর্ণিত হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, কারবালার ঘটনার আগেও আশুরার ইতিহাস রহস্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। এমনকি নবী কারিম (সা.)-এর দাওয়াতি জিন্দেগিতে বিশেষত হিজরতের আগে ও পরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে মহররম মাসের সম্পর্ক রয়েছে। আশুরা নিয়ে সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণা, রীতি-রেওয়াজ ও কার্যাবলি রয়েছে; যেগুলো সম্পূর্ণ ইসলামের ইতিহাস ও বিধানের বিপরীত। এসব কুসংস্কারের অন্যতম কয়েকটি হলো-

এক. আশুরা উপলক্ষে নিজের শরীরে আঘাত করে রক্ত বের করা। যা নিতান্তই অমূলক, কারণ এমন কাজের কোনো নির্দেশনা ইসলামে নেই।

দুই. রণ প্রস্তুতির মহড়া প্রদর্শন করা। কারবালার ইতিহাসের স্মরণে প্রচলিত যে, রণ সাজের আয়োজন করা হয়- সে সম্পর্কে সাহাবি, তাবেয়ি এমনকি উলামায়ে কেরামদের থেকে কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। তারা এগুলো পালন করেননি। অথচ, ইসলাম পালনে তারা আমাদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী।

তিন. বিভিন্ন অঞ্চলে মেলার আয়োজন করা। ইসলাম এসব মেলাকে সমর্থন করে না।

চার. মহররম মাসে জারি গানের আসর জমানো। ভয়ংকর এ প্রচলন এখনো মুসলিম সমাজে বিদ্যামান।

পাঁচ. বিয়ে থেকে বিরত থাকা। অনেকে মহররম মাসকে কুলক্ষুনে মনে করে, এ মাসে বিয়ে থেকে বিরত থাকে। অনেকে আবার আশুরার দিনে বিশেষ খাবারের আয়োজন করে। এগুলো সম্পর্কে কোনো বিধান বা হুকুম ইসলামের পাতায় খুঁজে পাওয়া যায় না।

প্রচলিত এসব কার্যাবলির প্রভাব অত্যন্ত ভয়ংকর। এগুলো থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আর এসব থেকে মুক্তির উত্তম পথ হলো- সত্য ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরা, সত্য ইতিহাস জানা। এই জানার কোনো বিকল্প নেই।

কিউএনবি/অনিমা/২৯ জুলাই ২০২৩,/দুপুর ১:২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit