আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শনিবার (১৬ ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘রুশ ফেডারেশনের কাছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমরা এর আগে কখনোই এসব যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করিনি।’পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করলে রাশিয়ারও এ বোমা ব্যবহারের অধিকার আছে। যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে এ বোমা ব্যবহার করে, তাহলে অবশ্যই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এটি ব্যবহারের অধিকার রাখি।’
গণবিধ্বংসী হওয়ায় বিশ্বের শতাধিক দেশে নিষিদ্ধ রয়েছে বিতর্কিত ক্লাস্টার বোমার উৎপাদন, মজুত ও ব্যবহার। যদিও যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে এসব গুচ্ছ বোমার ব্যবহার বন্ধে বাকি দেশগুলোর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়া। তবে চলতি মাসেই যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে বিতর্কিত এই ‘নিষিদ্ধ’ গুচ্ছ বোমা পাঠানোর ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
জুনের প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত এলাকা থেকে রুশ সেনাদের হটিয়ে দিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেন। তবে তাদের এ অভিযান প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। কারণ, ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ শুরুর আগেই দখল করা অঞ্চলগুলোতে শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলে রুশ সৈন্যরা।
গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইউক্রেনকে তাদের ৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে তারা ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা পাঠাচ্ছে। তারপর থেকে ১২৩টি দেশে নিষিদ্ধ এ ক্লাস্টার বোমা পাঠানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি দিয়েছে, প্রায় ১৭ মাস আগে শুরু হওয়া রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধ যেন দুর্বল হয়ে না পড়ে, তাই তারা কিয়েভকে ক্লাস্টার বোমা পাঠিয়ে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমা পাঠানো হয়েছে। এটি এমন এক ধরনের বোমা যার মধ্যে একাধিক বিস্ফোরক বা বোমা থাকে। গুচ্ছ বোমার একটি ক্যানিস্টার ১০টি থেকে শুরু করে শত শত ছোট বোমা বহন করতে পারে। ক্যানিস্টারগুলো বিমান, আর্টিলারি, নৌ বন্দুক অথবা রকেট লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা যায়।
লক্ষ্যবস্তুর ওপর নির্ভর করে ক্যানিস্টারগুলো একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় এসে খুলে যায়। এরপর ভেতরে থাকা বোমাগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভূমির কাছাকাছি অথবা ভূমিতেই যেন বিস্ফোরণ ঘটে, সে লক্ষ্যে বোমা বিস্ফোরণে টাইমার ব্যবহার করা হয়।
ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপের পর তা বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে যায়। ফলে সামরিক বাহিনী ছাড়াও বহু বেসামরিক লোক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ ছাড়া রেডক্রসের ইন্টারন্যাশনাল কমিটির মতে, বোমা নিক্ষেপের পর কখনও কখনও ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে না। অবিস্ফোরিত বোমাগুলো কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক পরও ফোটার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ এ অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিনিশনস (সিসিএম) অস্ত্রের মজুত, উৎপাদন এমনকি স্থানান্তরকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই কনভেনশনে ১২৩টি দেশ যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়াসহ ৭১টি দেশ এতে যোগ দেয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের সেনা বা তাদের গাড়িবহরে হামলা করলে তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অপরাধ বলে গণ্য হবে না। তবে যদি এ বোমা কোনো বেসামরিককে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়, তাহলে সেটি যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ জুলাই ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪৪