আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বুধবার (১২ জুলাই) এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্যাংক, মোবাইল রকেট লঞ্চার ও অন্যান্য ভারী অস্ত্রসহ দুই হাজারের বেশি সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছে ওয়াগনার বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আড়াই হাজার টনেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও প্রায় ২০ হাজার ছোট অস্ত্র জমা নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ সরঞ্জামই যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। হস্তান্তরকৃত শত শত অস্ত্র আগে ব্যবহার করা হয়নি। এগুলো প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছে। যেগুলোয় সংস্কার প্রয়োজন সেগুলোতে বিশেষ ইউনিট কাজ করছে।’গত ২৩-২৪ জুন বিদ্রোহের সময় ভাড়াটে সেনারা দক্ষিণ রাশিয়ার শহর রোস্তভ-অন-ডন নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মস্কোর দিকে অগ্রসর হয়। তবে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় বিদ্রোহ থেকে সরে আসেন ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন।
এরপর রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী বেলারুশে যেতে রাজি হন ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন। আটক বা বিচারের আওতায় নেয়া হয়নি ওয়াগনার যোদ্ধাদের। বিপরীতে তাদেরকে অস্ত্র ফেরত দিতে বলা হয়। গত ২৭ জুন রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াগনার বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ভারী অস্ত্র-সরঞ্জাম ফেরত দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিনের সঙ্গে চুক্তির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে ওয়াগনার বাহিনীর কাছ থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার করে তা দিয়ে রুশ ন্যাশনাল গার্ডকে সজ্জিত করা হবে।
ওয়াগনার অস্ত্র জমা দিলেও প্রিগোজিনের অবস্থানসহ সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক কিছু অস্পষ্ট। চলতি সপ্তাহে ক্রেমলিন বলেছে, বিদ্রোহের পাঁচ দিন পর ২৯ জুন প্রায় তিন ঘণ্টা প্রিগোজিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন।
ফ্লইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, প্রিগোজিনের একটি উড়োজাহাজ মস্কো ছেড়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলারুশের দিকে রওনা হয়েছিল, তবে তিনি তাতে ছিলেন কিনা তা জানা যায়নি।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ জুলাই ২০২৩,/বিকাল ৫:২১