বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা প্রসূতি তার নবজাতকসহ মারা গেছে। এ ঘটনার জন্য প্রসূতির স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।মারা যাওয়া শাহিদা আক্তার খুকি (২৩) জেলার কসবা উপজেলার ধ্বজনগর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী। তবে তিনি আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদ পাড়ায় ভাড়া থাকতেন।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহিদা আক্তারের বাবার বাড়ি আখাউড়ার ছয়ঘড়িয়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে তার প্রসব ব্যথা হলে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করানো হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই প্রসূতি নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ছেলে সন্তান প্রসব করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে থামানো যাচ্ছিলো না এবং নবজাতকটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
এ অবস্থায় তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্বজনরা তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবজাতক হাসপাতালে নিয়ে যান। নবজাতক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনই মৃত বলে জানান। পরে তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের আত্মীয়-স্বজন লাশসহ এসে আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে উত্তেজিত হয়। পরে খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।নিহতের বোন মাহমুদা বেগম জানান, চিকিৎসা অবহেলার কারণে বোন ও তার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের অবহেলা করতে থাকেন হাসপাতালের লোকজন।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হিমেল খান জানান, প্রসূতি শাহিদা আক্তার খুকির নরমাল ডেলিভারি করেছেন ডা. ফারিয়া সুলতানা ও নার্স হিসেবে ছিলেন সুমনা । তাদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন রোগীর অবস্থা ভালোই ছিলো এবং আমরা স্বাভাবিক ভাবেই নরমাল ডেলিভারি করা হয়। তবে এক পর্যায়ে প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সেটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো অবস্থায় রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে প্রসূতিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কিউএনবি/অনিমা/০৫ মে ২০২৩,/রাত ১০:৪৮