মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন

আসামী ধরতে পুলিশকে সহায়তাকারির ভাইকে খুন!

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৭০ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : আসামী ধরতে পুলিশকে সহায়তা করেছিলেন বেকারি চালক জাহিদুল ইসলামের ভাই মো. সানাউল্লাহ। আর এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই জাহিদুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করে আসামী মোহাম্মদ হোসেন ও তার সহযোগিরা। কিশোর জাহিদুল হত্যাকান্ডের দুই দিনের মধ্যেই পুলিশের তদন্তে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোসাইন সাংবাদিকদের কাছে হত্যাকান্ড বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক মোহাম্মদ হোসেন। তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম (৪৪) ও সিয়াম (১৫) নামে আরো দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের দক্ষিণ জাগৎসার গ্রামের এলাছ মিয়ার চার ছেলের মধ্যে জাহিদুলসহ তিনজন চট্টগ্রামে বেকারিতে কাজ করেন। গত ১৭ রমজান ছুটিতে বাড়িতে আসে জাহিদুল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে তাকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে সুলতানপুরে একটি পুকুরে জাহিদুলের বিভৎস লাশ পাওয়া যায়। জাহিদুলকে জবাই করা হয়। এছাড়া তার বুক ও পেটে ছুরিকাঘাত করে ভুরি বের করে ফেলা হয়। দুই হাতের কব্জির রগ ও গোপনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। দুই কানের উপর থেকে নিচ পর্যন্তও কেটে ফেলা হয়।
জাহিদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে ঘটনার পর তদন্তে নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ।  প্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণ জগৎসার গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৩৫) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রথমে পুলিশের কাছে ও পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হোসেন। তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নজরুল ইসলাম (৪৪) ও সিয়াম (১৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
ঘাতক মোহাম্মদ হোসেনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাহিদুলের পরিবারের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ ছিল মোহাম্মদ হোসেনের। একটি নারী নির্যাতন আইনের মামলায় মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ তাকে খোঁজছিলো। হোসেনকে ধরতে জাহিদুলের বড় ভাই সানাউল পুলিশকে সহায়তা করেছিল। এ মামলায় সানাউল জেল খাটে। এটা থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলো মোহাম্মদ হোসেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় কিশোর মো. সিয়ামকে দিয়ে কৌশলে সানাউলের ছোট ভাই জাহিদুলকে ডেকে আনেন মোহাম্মদ হোসেন। পরে তাকে সুলতানপুরের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে মোহাম্মদ হোসেন ও তার বন্ধু নজরুল ইসলামসহ আরও দুইজন মিলে কিশোর জাহিদুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ এপ্রিল ২০২৩,/দুপুর ১২:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit