আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি কেমন হবে তার একটি প্রতিরূপ পৃথিবীতেই তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে মানুষ কীভাবে মানিয়ে নেবে সে সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে এক বছর সেখানে থাকবেন স্বেচ্ছাসেবীরা। বুধবার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক্সাসের হিউস্টোনে নাসার বড় গবেষণা কেন্দ্রে ক্রু হেলথ অ্যান্ড পারফরম্যান্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ (চ্যাপিয়া) প্রকল্পে তিনটি বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মার্স ডুন আলফা’ নামের একটি প্রতিরূপের বেশ কয়েকটি ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেছে নাসা।
চ্যাপিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রকল্পের প্রধান গবেষক গ্রেস ডগলাস বলেন, এখান থেকে সংগ্রহিত ডেটার মাধ্যমে মঙ্গলে নভোচারীদের সম্পদ ব্যবহারের প্রক্রিয়া তারা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। কারণ এ ধরনের দূরবর্তী মিশনে খুব কঠোর ভর সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে সম্পদ থাকে সীমিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবীরা মার্স ডুন আলফা নামের ১ হাজার ৭০০ বর্গফুটের বাড়িটিতে অবস্থান করবেন। সেখানে দুটি বাথরুম থাকবে, সালাদ চাষের জন্য থাকবে খামার। এছাড়া একটি বিশ্রাম জোন, চিকিৎসার কক্ষ ও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ক স্টেশন ও গ্রিনহাউস থাকবে সেখানে। শরীর সুস্থ রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা দৌড়াতে পারবেন ট্রেড মিলে।
গবেষকরা নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। পাশাপাশি পানি সরবরাহ কমিয়ে দিলে বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে ঘাটতি দেখা গেলে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। আর এ বাসস্থানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি থ্রিডি প্রিন্টেড।
যদিও নাসা মঙ্গল গ্রহে অভিযানের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির মূল ফোকাস এখন আর্টেমিস মিশনের প্রতি। যেখানে নাসার লক্ষ্য অর্ধশতাব্দী পরে মানুষকে চাঁদের বুকে ফিরিয়ে নেওয়া। এরই মধ্যে আর্টেমিস-১ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সামনের বছরই আর্টেমিস-২ মিশন পরিচালনার কথা রয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:১২